ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

অদক্ষতা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে বেকারত্ব বেড়েছে: আজিজুল

Rate this item
(0 votes)

বাণিজ্য উদারীকরণ নয়, বরং অদক্ষতা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে 'ট্রেড লিবারেলাইজেশন ইন বাংলাদেশ: ইমপ্লিমেন্টেশন ফর অ্যামপ্লয়মেন্ট' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)

যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভায় সিপিডির পক্ষ থেকে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। সিপিডি'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা করা হয়, সাধারণভাবে বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। বর্তমানে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের হার খুবই কম। বাণিজ্যে উদার নীতির কারণে এই হার বাড়ছে না।

এর বিরোধিতা করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "বাণিজ্য উদারীকরণের চেয়ে অদক্ষতা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণেই দেশে বেকারত্ব বেড়েছে।"

অর্থ উপদেষ্টা আরো দাবি করেন, "দেশের পাট শিল্প ধ্বংসের জন্য বাণিজ্য নীতি দায়ী নয়। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই পাট শিল্পকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে।"

মির্জ্জা আজিজের মতে, সরকারের বাণিজ্য নীতি বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য দায়ী হলে দেশে শ্রমনির্ভর শিল্পের প্রসার ঘটতো না। বাণিজ্য উদারিকরণের কারণে দেশের রপ্তানি খাত লাভবান হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, "দক্ষ কর্মীদের উৎসাহিত করার বিষয়টি মাথায় রেখেই এখনকার বাণিজ্য নীতি তৈরি করা হয়েছে। এখনকার শ্রম বাজারে অদক্ষদের নিরুৎসাহিত করে।"

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা অনুসারে, বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু স্বল্পোন্নত দেশ যথেষ্ট ক্ষতির মুখে পড়বে। এসব গবেষণাপত্রে বলা হয়, খাদ্যে আমদানি নির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশসহ আফ্রিকার বেশ কিছু স্বল্পোন্নত দেশ বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কার মুখে রয়েছে।

১৯৯০ এর দশকে বাংলাদেশের বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদারীকরণ হয়। '৭০ ও '৮০ দশকের প্রথম দিকে সর্বোচ্চ শুল্ক হার ছিল ৩৫০ শতাংশ। '৯০ এর দশকে এই হার মাত্র ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

Last modified on Monday, 10 March 2014 15:50