ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

'বিনিয়োগই হতে পারে মূল চাবিকাঠি'

Rate this item
(0 votes)

আন্তঃবাণিজ্য বাড়াতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিয়োগের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদরা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক গোলটেবিল বৈঠকে একথা বলা হয়।

'গ্লোবাল ইকোনমিক শিফট টু এশিয়া- রিজিওনাল

সিনারজিস' শীর্ষক এই গোলটেবিলে ভারতের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জয়রাম রমেশ বলেন, "অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি অনেকখানি নির্ভর করে আঞ্চলিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর।

"দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিনিয়োগই হতে পারে মূল চাবিকাঠি।"

বাণিজ্যকে একমুখী এবং বিনিয়োগকে দ্বিমুখী সড়কের সঙ্গে তুলনা করে জয়রাম বলেন, "শুধু বাণিজ্য বাড়ানোর কথা না ভেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উচিৎ পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানো।

"একসময় ভারত ও শ্রীলঙ্কার আন্তঃবাণিজ্যের পার্থক্য ছিল অনেক। এ ব্যবধান রাতারাতি ঘোচেনি। পারস্পরিক আলোচনা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ম্যাধ্যমেই এ পার্থক্য কমিয়ে আনা গেছে।"

বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে রমেশ দাবি করেন, "ভারতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধাগুলো ভারত সরকার তুলে নিয়েছে। একইভাবে প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।"

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জনশক্তি, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার রপ্তানি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রী জি এল পেইরিস বলেন, "বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণদের যেমন পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিতে হয়, এই সম্ভাবনাকেও সেভাবেই কাজে লাগাতে হবে।"

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, "এশিয়া যেহেতু একটি বড় বাজার, সেহেতু এর দেশগুলোকে আরো ঐক্যবদ্ধভাবে এগুতে হবে।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এশিয়া হয়ে উঠবে বিশ্বের সবচে বড় সরবরাহকারী।

সার্ক চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রেসিডেন্ট তারিক সঈদ বলেন, "নিজেদের স্বার্থেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বন্দর ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আরো সহজ করা দরকার।"

গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালক ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান।

বাণিজ্য ক্ষেত্রে আগামী ১৫ বছরের করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন শুরু হয়। জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) প্রতিনিধি, চীন ও ভারতের দুজন মন্ত্রী ছাড়াও প্রায় ২০টি দেশের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ প্রায় সাড়ে ছয়শ প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ শুক্রবার এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

Last modified on Monday, 10 March 2014 15:48