ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি সবচে অনুদার: বিশ্ব ব্যাংক

Rate this item
(0 votes)

বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধার পরিমাণ সবচে বেশি।

সোমবার প্রকাশিত 'বিশ্ব বাণিজ্য সূচক ২০০৮- নীতি ও দক্ষতা' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো যথেষ্ট উদার নীতি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না।

বিকেলে ঢাকার বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি নতুন ডাটাবেজ ও ক্রম

নির্ধারক পদ্ধতি প্রকাশ করেছে বহুজাতিক সংস্থাটি।

বিশ্ব ব্যাংকের এই 'র‌্যাংকিং' অনুযায়ী, উদার বাণিজ্য নীতির বিচারে বিশ্বের ১২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩তম। তবে বাজারে প্রবেশাধিকারের বিচারে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো বাণিজ্য নীতিমালার উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি জিয়ান জু বলেন, "গত দেড় দশকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া যথেষ্ট উন্নতি করলেও বিশ্বের এ অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক নীতি বহাল রয়েছে। আর এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণ প্রবণতা সবচে বেশি।"

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯০ এর দশকের শুরুতে শুল্কহার কমানো, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তুলে নেওয়া ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে একটি মুদ্রার প্রচলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতে সংস্কার আনা হয়। তারপরও এ দেশের অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম অনুদার বাণিজ্য নীতি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্ব ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বাইরের বিশ্বের জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করে দিলেও নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণের পথ অনেকখানি আগলে রেখেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ দেশগুলোর মোট জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ২ শতাংশেরও কম। অথচ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই হার জিডিপি'র ২০ শতাংশের বেশি।

জিয়ান জু বলেন, "একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কামনোর পাশাপাশি বাণিজ্য নীতি আরো শিথিল করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।"

Last modified on Monday, 10 March 2014 15:48