ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বাংলাদেশে দুটি নকল সিডি কারখানা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তাগিদ

Rate this item
(0 votes)

নকল সিডি তৈরির দুটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড কম লিমিটেড ও সনিক এন্টারপ্রাইজ (বিডি) লিমিটেড নামের এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথমটির কারখানা তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ও অন্যটি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ওয়ার্ল্ড কম লিমিটেড পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান হলেও সেখানকার কপি রাইট আইনের কড়াকড়ির কারণে কোম্পানিটি বাংলাদেশে এসে ব্যবসা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ বোর্ডের তালিকাভুক্ত।

তিনি বলেন, "পাকিস্তানে কপিরাইট আইন খুব কড়াকড়ি বলে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে এসে নকল সিডির ব্যবসা শুরু করে। আমরা বিনিয়োগ বোর্ডকে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।"

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ২০০৭ সালের বিশেষ প্রতিবেদন ৩০১ এ ওই কারখানা দুটির বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বৈঠকেও এ বিষয়টি আলোচিত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তাকিম এ বিষয়ে বলেন, "কপিরাইট আইন বা আন্তর্জাতিক মেধাসত্ত্ব আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের। আমরা ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি তারা যাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।"

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবিএম আব্দুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পাইরেসি ঠেকাতে এরইমধ্যে আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"

রেজিস্ট্রার অফ কপি রাইটস এম এ শাহ মাহামুদুল হাসান বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য তারা পাইরেসির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করছে।"

যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিশেষ প্রতিবেদনে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন হচ্ছে এমন দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অথচ স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ২০১৩ সাল পর্যন্ত এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিশেষ ছাড় পাওয়ার কথা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নকল সিডি ও বই প্রকাশের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের নাম নজরদারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়, কারণ এতে করে আমাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।

২০০৭ সালের বিশেষ প্রতিবেদন ৩০১ অনুযায়ী, যেসব দেশে আন্তর্জাতিক মেধাসত্ত্ব আইন লঙ্ঘন হচ্ছে সেসব দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য অবরোধের মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশকে ওই তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তখন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

Last modified on Monday, 10 March 2014 15:48