ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ছাড়িয়েছে

Rate this item
(0 votes)

দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে আর কখনো জুলাই-নভেম্বর সময়ে এতো ঘাটতি হয়নি। গত ২০০৬-০৭ অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খাদ্য আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

তবে বোরোর ফলন ভালো হলে ঘাটতি অনেকটা পূরণ হবে। আর তা না হলে খাদ্য আমদানি আরও বেড়ে যাবে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর আমদানি বেড়েছে ১০৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই পাঁচ মাসে আমদানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ঘাটতি ছিল ২৮৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এ তসলিম শনিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমদানির তুলনায় রপ্তানি বাড়েনি। সে কারণেই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।"

তিনি বলেন, "এমনিতে সব সময়ই আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি থাকে। এবার পর পর দুই দফা বন্যা ও ঘুর্ণিঝড়ের কারণে সব ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় খাদ্য আমদানি অনেক বেড়ে গেছে। তবে বোরো উৎপাদন বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমে আসতে পারে।"

এম এ তসলিম বলেন, "আশা করছি বোরোর বাম্পার ফলন হবে এবং বাণিজ্য ঘটাতিও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। আর বোরোর ফলন ভালো না হলে খাদ্য আমদানি আরও বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আমরা বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ব।"

তিনি বলেন, "গত ছয় বছর আমাদের ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) উদ্বৃত্ত থাকলেও, আমদানি ব্যয় বাড়ায় এবার ঘাটতি ১০০ কোটি ডলারের বেশি।''

রেগুলেটরি রিফমর্স কমিশনের চেয়ারম্যান আকবর আলি খান বলেন, "বোরোর বাম্পার ফলনের জন্য শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বসে থাকলে চলবে না। সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য কৃষকদের সার, বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের সময়মতো পর্যাপ্ত কৃষি ঋণ পাওয়াও নিশ্চিত করতে হবে।"

তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণেই দাম বাড়ছে। ভবিষ্যতে টাকা দিয়েও খাদ্য পাওয়া যাবে কি না সে ব্যাপারেও সংশয় রয়েছে। আর এ কারণেই যে কোনও মূল্যে বোরোর উৎপাদন বাড়াতে হবে।"

সরকার এবার এক কোটি ৭৫ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গতবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৪৯ লাখ টন। এবার বোরো চাষের জমির পরিমাণ ৪ শতাংশের মতো বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) মোট ১৩ লাখ ৬১ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে মাত্র দুই লাখ চার হাজার টন চাল আমদানি হয়েছিল। ব্যয় হয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে চাল আমদানির জন্য মোট ২১ লাখ ৯৯ হাজার টনের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এ জন্য মাত্র দুই লাখ ৮৯ হাজার টনের এলসি খোলা হয়েছিল।

এছাড়া গম আমদানির ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৯৫ শতাংশ।

Last modified on Monday, 10 March 2014 15:49