ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ডব্লিউটিও সম্মেলন: শুল্কমুক্ত প্রবেশ চাইবে ঢাকা

Rate this item
(0 votes)

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে শনিবার রাতে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, “এবারের সম্মেলনে আমরা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের বাজারে এলডিসি’র সকল পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা চাইব।”

অন্য তিনটি ইস্যু হচ্ছে- বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি, সেবা খাতের বাণিজ্যে ছাড় এবং রুলস অব অরিজিন।

সম্মেলনে মাহবুব আহমেদ বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদেরের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। জাতীয় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় শেষ পর‌্যন্ত তিনি যাচ্ছেন না।

বালিতে আগামী ৩ ডিসেম্বর এই সম্মেলন শুরু হবে। শেষ হবে ৬ ডিসেম্বর।

জেনেভাতে ডব্লিউটিওর প্রধান কার্যালয়ে সম্মেলন পূর্ববর্তী আলোচনা শেষ হয়েছে । ‘বালি প্যাকেজ’ এর জন্য নেগোসিয়েশন বা আলোচনা করে সমঝোতায় আসার বিষয়টি জেনেভাতেই নিস্পত্তি হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

শেষ পর‌্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় বিভিন্ন সম্ভাব্য চুক্তির ডকুমেন্ট নিয়ে বালিতেও নেগোসিয়েশন করতে হবে; যা সম্মেলনের সাফল্যকে ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) উদ্যোগে সম্মেলন চলাকালে বালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলন শুরুর আগের দিন এলডিসি দেশগুলোর মন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করছে।

সম্মেলনে এ বিষয়টিও উত্থাপন করা হবে বলে জানান মাহবুব আহমেদ।

বাণিজ্য সচিব বলেন, বালি সম্মেলনে মোটা দাগে বাণিজ্য সহজীকরণ বা ট্রেড ফাসিলিটেশন, কৃষি এবং এলডিসির জন্য উন্নয়ন প্যাকেজ নিয়ে অলোচনা হবে।

 

 

“প্যাকেজের মধ্যে আবার ৪ টি ইস্যু রয়েছে । এগুলো হচ্ছে- শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, সেবা খাতের বাণিজ্যে এলডিসির জন্য ছাড়, রুলস অব অরিজিন বা রফতানি পণ্যের কাঁচামালের উৎস সম্পর্কিত শর্ত শিথিল করা এবং তুলা ইস্যু।”

বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি পাস হলে মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য উপকার হবে বলে জানান মাহবুব।

শুল্কমুক্ত সুবিধা

২০০৫ সালে ডব্লিউটিওর হংকং সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় যে, সকল উন্নত দেশগুলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশের সকল পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দেবে। যে সকল দেশ একশ ভাগ পণ্যে এ সুবিধা দিতে পারবে না তারা অন্তত ৯৭ শতাংশ পণ্যে এ সুবিধা দেবে।

কিন্তু এ সুবিধা গ্রহণের আট বছর পার হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ বালি সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাগিদ দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র একটি নিজস্ব আইনের আওতায় আফ্রিকার দেশগুলোকে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে; ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্তের আলোকে নয়।

“তবে বর্তমান পেক্ষাপটে বাংলাদেশকে এ সুবিধা দিতে হলে তাদেরকে (যুক্তরাষ্ট্র) রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে,” বলেন মাহবুব আহমেদ।

বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি

ডব্লিউটিওর আওতায় বাণিজ্য সহজীকরণের ওপর একটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নেগোসিয়েশন চলছে। বালি সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি চুক্তি হওয়ার কথা। এর উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি আধুনিক ও উন্নত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যাতে বাণিজ্যের জন্য সময় ও ব্যয় কমে।

এই চুক্তির বিষয়বস্তু বালিপূর্ব জেনেভা আলোচনায় চুড়ান্ত করা যায়নি।

সেবা খাতের বাণিজ্যে ছাড়

দীর্ঘদিন আলোচনার পর সেবা খাতের বাণিজ্যে এলডিসির জন্য ছাড় বা এলডিসি সার্ভিস ওয়েভারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০১১ সালে জেনেভাতে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত দেশগুলো এলডিসির জন্য সেবা খাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার কথা। কিন্তু গত দুবছরে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বালি সম্মেলনে বাংলাদেশসহ এলডিসিগুলো জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

রুলস অব অরিজিন

রুলস অব অরিজিন হচ্ছে শুল্কমুক্ত বা যে কোন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার আওতায় রফতানি পণ্যের কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন শর্ত।

মাহবুব আহমেদ বলেন, রুলস অব অরিজিন শর্ত সহজ ও সরল না হলে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধা স্কিম কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। রুলস অব অরিজিন সহজ, স্বচ্ছ ও শিথিল করার লক্ষ্যে বালিতে একটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে।