ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ট্রানজিটের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন চায় ভারত

Rate this item
(0 votes)

দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ট্রানজিটের জন্য বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন এবং স্থল ও নৌ-বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশ বলেছে, ট্রানজিট সুবিধার জন্য ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত সবকিছু সম্ভব হবে না, ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এ কথা জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ ও ভারতের বাণিজ্য সচিব এস আর রাও নিজ নিজ পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই সীমান্ত হাট আরো সম্প্রসারণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে ট্রানজিটের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

“আমরা বলেছি, ট্রানজিটের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ধীরে ধীরে করা হবে। এখনই তা সম্ভব নয়।”

নৌ-ট্রানজিট ব্যবহারের জন্য কার্যক্রম দ্রুততর করারও তাগিদ দিয়েছে ভারত। তবে নৌ-পথের বিষয়টি নিয়ে নৌ-মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব জানান, বিএসটিআই থেকে মান যাচাই সার্টিফিকেট নেয়া সব পণ্য বৈধ হিসেবে গণ্য করছে ভারত। শুধুমাত্র সিমেন্টের বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে। সিমেন্টের ক্ষেত্রে ভারতের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষার পরই তারা বাংলাদেশ থেকে আমদানি করছে। এক্ষেত্রে বিএসটিআই’র সার্টিফিকেটকে গণ্য করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

মাহবুব আহমেদ আরো বলেন, ভারত থেকে আমদানির জন্য ২২৫টি পণ্যের নেতিবাচক তালিকা (নেগেটিভ লিস্ট) থেকে ২৩টিকে বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। পর্যায়ক্রমে আরো পণ্য বাদ দেয়া হবে।

“দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভারতের পক্ষ থেকে ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতাও তুলে নেয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

“ভারত থেকে তুলা আমদানির বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার অনুরোধ জানিয়েছি। প্রতি বছর ভারত থেকে ১৫ লাখ বেল তুলা আমদানি হয়। তুলা আমদানি সহজ করতে দুই দেশ একটি চুক্তি করবে।”

সীমান্ত হাট

ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামে আরো সীমান্ত হাট চালুর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। এক্ষেত্রে দুই দেশই একমত হয়েছে বলে জানালেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ।

তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ দুই বছরের ভিসা দেয়। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছেও তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অনুরূপ সুবিধা চেয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো বলে জানিয়েছি।

ভারতীয় কোম্পানি লিলিপুট ওয়্যারের কাছে বাংলাদেশের ২২ ব্যবসায়ীর পাওনা অর্থের কথা উল্লেখ করে সচিব জানান, ভারতও বাংলাদেশি ৫৬টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছে, যাদের কাছে অর্থ পাবে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

“এ বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেছি। এক্ষেত্রে উভয় দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের সুপারিশও করা হয় বৈঠকে।”

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক সর্বশেষ গত ২৮ ও ২৯ মার্চ নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইন্ডিয়া শো’ উপলক্ষে ভারতের বাণিজ্য সচিব ঢাকা আসার পর ওই বৈঠকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইন্ডিয়া শো শুরু হয়েছে।