ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আগের চেয়ে কমিয়ে ভোজ্য তেলের নতুন দাম নির্ধারণ হচ্ছে

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, মার্চ ১৫- আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমতে শুরু করায় দুই একদিনের মধ্যে স্থানীয় বাজারে তেল বিক্রির নতুন দাম নির্ধারণ করবে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে একটি 'প্যাকেজ'ও গ্রহণ করা হচ্ছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেছেন, এর আগে বেঁধে দেওয়া দামে যেসব মিল মালিক ভোজ্য তেল বিক্রি করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবার সকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমতে শুরু করায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দাম আরও কমবে বলে আমরা আশা করছি।"

উপদেষ্টা বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমতে শুরু করায় স্থানীয় বাজারেও এর সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। দু-এক দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে হিসাব-নিকাশ করে নতুন দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।"

গত ২৫ ফেব্র"য়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার মিলগেটে প্রতি কেজি সয়াবিন ১০৩ টাকা ও পাম তেলের দাম ৯৬ টাকা এবং খুচরা বাজারে যথাক্রমে তা ১০৬ টাকা ৫০ পয়সা ও ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করেছিল।

তবে খুচরা বাজারে ওই সিদ্ধান্ত তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, "দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও যারা বেশি দামে তেল বিক্রি করেছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।"

তিনি আরও বলেন, "বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিয়ত বাজার পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। শুধু ভোজ্য তেল নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সব ধরনের চেষ্টা করছে সরকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নতুন কিছু কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য একটি 'পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ' হাতে নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে 'প্যাকেজ' ঘোষণা করা হবে।"

তবে ওই প্যকেজের বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা জানান, বেঁধে দেওয়া দামে তেল বিক্রি না করায় দেশের সাতটি বড় ভোজ্য তেল পরিশোধন ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এজন্য সিটি গ্র"প, টি কে গ্র"প, মেঘনা গ্র"প, ইউনাইটেড এডিবল ওয়েল, এস আলম গ্র"প, মোস্তফা ভেজিটেবল ওয়েল ও বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলকে চিঠি দিয়ে ২৫ ফেব্র"য়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত পণ্য খালাস, তেল উৎপাদন ও বিক্রির সব তথ্য জানাতে বলা হয়।

একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই সময়ে বিক্রি করা তেলের বিপরীতে এই সাত প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) দিয়েছে সে তথ্য জানাতে বলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

দেশের ভোজ্য তেলের ৯০ শতাংশের বেশি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী ওই সাত প্রতিষ্ঠান গত ৯ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর এরই মধ্যে জবাব দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চিঠির জবাব ও এনবিআর এর পাঠানো তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাজারে অস্থিরতা তৈরির জন্য এদের কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার পেছনে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ভোজ্য তেল পরিশোধন মিল মালিক সমিতির সভাপতি এম এ রউফ চৌধূরী শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন "এফবিসিসিআই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি খুব একটা অবগত নই। তবে আমার কাছে থাকা তথ্য অনুসারে, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেই মিল মালিকরা তেল বিক্রি করেছে। খুচরা বাজারে যদি কেউ বেশি দামে বিক্রি করে থাকে, সেজন্য আমদানিকারক ও মিল মালিকরা দায়ী নয়।"

তবে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বলেন, "যে পরিমাণ তেল মিল মালিকদের সরবরাহ করার কথা ছিল তা তারা করেনি। ওই পরিমাণ তেলও আমাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। এ কারণেই বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।"

গত কয়েকদিনে পাইকারি বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও শেওড়াপাড়া বাজারে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ৫ লিটারের বোতলজাত রূপচাঁদা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়।

পাইকারি বাজার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ গোলাম মওলা বলেন, "গত কয়েক দিনে ভোজ্য তেলের পাইকারি দাম কিছুটা কমেছে। শনিবার প্রতি মণ সয়াবিন তেল চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পামওয়েল বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৭০০ টাকায়। কয়েক দিন আগেও সয়াবিনের দাম ছিল চার হাজার ২৫০ টাকা ও পামওয়েলের তিন হাজার ৮৫০ টাকা।"

আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক দিনে তেলের দাম প্রতি টনে একশ ডলারের বেশি কমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মালয়েশীয় পামওয়েল কাউন্সিলের বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা শনিবার বিকেলে  বলেন, "গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল এক হাজার ৬৫০ ডলার। শুক্রবার তা কমে এক হাজার ৪৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একইসঙ্গে পামওয়েলের দাম এক হাজার ৫৫০ ডলার থেকে এক হাজার ৩০০ ডলারের নেমে এসেছে।"