ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আন্তর্জাতিক দরপতন ও বাম্পার ফলনে কমেছে বাণিজ্য ঘাটতি

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, আগস্ট ২৪ বিশ্বমন্দায় আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন আর বোরো ও আমনের বাম্পার ফলনে দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে।

গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি কমে ৬৯৪ কোটি ১৮ লাখ (৬ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন) ডলারে নেমে আসে।

এর আগের ২০০৭-০৮ অর্থবছরেই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৫১ কোটি ৮২ লাখ (৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন) ডলার।

অর্থাৎ গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি বরাবরের মতো না বেড়ে উল্টো কমেছে ৫৭ কোটি ৬৪ লাখ (৫৭৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন) ডলার।

অথচ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এ ঘাটতির পরিমাণ আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছিল।

এর আগের অর্থবছরগুলোতে প্রতিবারই এ ঘাটতির পরিমাণ অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দার কারণে গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল, সার, খাদ্য পণ্যসহ প্রায় সব ধরনের জিনিসের দাম কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় কম হয়েছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, এর ওপর দেশে গত বোরো ও আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় চাল আমদানি প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে আসে।

তাদের মতে, এ দু'টি বাণিজ্য ঘাটতি কমার অন্যতম কারণ।
তবে চাল, জ্বালানি তেল, সার আমদানি খাতে খরচ কমলেও সামগ্রিক হিসাবে গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় তেমন একটা কমেনি।

আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ গত অর্থবছরে আগের বছরের (২০০৭-০৮) চেয়ে আমদানি খাতে ব্যয় ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের (২০০৬-০৭) চেয়ে এ খাতে ব্যয় বেড়েছিলো ২৬ দশমিক ০৭ শতাংশ।

অন্যদিকে বিশ্বমন্দার মধ্যেও গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

আমদানি ও রপ্তানি দুই খাতেই প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার পরও গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেশ খানিকটা কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।

তিনি বলেন, "বোরো ও আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় গত অর্থবছরে চাল আমদানি করতে হয়নি। এ কারণে আমদানি ব্যয় কমেছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি প্রতি বছর যে হারে বাড়ছিল গত অর্থবছরে তা না বেড়ে উল্টো কমেছে।"

"আর এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেশ সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে। প্রতিদিনই রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ছে। দেড় মাস আগে রিজার্ভ ৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। বর্তমানে এ রিজার্ভ ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে।"

রিজার্ভ বাড়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে উল্লেখ করে আতিউর বলেন, "এভাবে বলা যায় যে, আমাদের দেশের কৃষক ও কৃষকের ছেলেরাই অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখছেন।"

তিনি আরও বলেন, "একদিকে কৃষক বাম্পার ফসল ফলিয়ে দেশকে খাদ্য আমদানি থেকে মুক্ত রেখে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছেন। অন্যদিকে এই কৃষকের ছেলেরা বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন।"

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, "মূলত: খাদ্য আমদানি শুন্যের কোঠায় নেমে আসায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সার ও খাদ্যপণ্যের দাম কমায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে।"

তবে মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানিও কমেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, "দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে- এটা তারই প্রমাণ।"

তিনি বলেন, "রিজার্ভ যতই হোক না কেন দেশে বিনিয়োগ না বাড়লে কোনো লাভ হবে না।"

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট ২২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট ১৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।
২০০৭-০৮ অর্থবছরের শেষ দিকে পর পর দু'দফা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সিডরের কারণে সব ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় খাদ্য আমদানি অনেক বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য পণ্য ও জ্বালানির অগ্নিমূল্য।
এসব কারণে ওই অর্থ বছরে আমদানি ব্যয় অন্য যে কোনো অর্থবছরের তুলনায় বেড়ে যায়।

গত অর্থবছরে খাদ্য (চাল ও গম) আমদানি কমেছে ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে তা ১৪২ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছিল।