ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বাণিজ্য মেলায় রপ্তানি আদেশ বেড়েছে

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, জানুয়ারি ৩১- মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার রপ্তানি আদেশ গত বারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

মঙ্গলবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানির আদেশ এসেছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

প্রতি বছরের মতো এবারও গত ১ জানুয়ারি শেরে বাংলা নগরে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়, যা মঙ্গলবার শেষ হল। বাণিজ্য মেলা সফলভাবে শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এবার মেলায় ১২টি দেশের ৪৭টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ভারত, পাকিস্তান, চীন, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইত্যাদি দেশ।

গত বছর আমরা ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির তথ্য জানিয়ে চলতি বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম আবুল কাসেম জানান, জাহাজ, আসবাবপত্র, আগর এবং রাবারসহ কয়েকটি পণ্য যোগ হওয়ায় বর্তমানে ১০৫টি পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

এই ধারা অক্ষুন্ন থাকলে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ। জাপান, ব্রাজিল ও রাশিয়া রপ্তানির বড় বাজার হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বাণিজ্য মেলায় এবার স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা ছিল। নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো বাড়ানোর আশ্বাস দেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মেলার জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দের দাবিসহ শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার কমানো, অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

মেলার জন্য জায়গা বরাদ্দের দাবির বিষয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, “মেলার স্থায়ী জায়গার জন্য রাজউক পূর্বাচলের কাছাকাছি একটা জায়গা দেখা হয়েছে। এটি পিপিপি, বিদেশি সাহায্য নাকি সরকারি সহযোগিতায় হবে, সেটা পরে দেখা যাবে।”

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকলেও সেটা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে না। রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করবেন, আপনারা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন।”

আয়োজকরা মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দুবাইকেন্দ্রিক আল হারামাইন পারফিউমসের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তোষের কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এর আগে আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়নগুলো মেলার একটি অংশে থাকলেও এবার সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। আর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ করা অনেক প্যাভিলিয়নে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করেছে।”

আন্তর্জাতিক মেলার আসল উদ্দেশ্য বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন হলেও বর্তমান আয়োজনে সে লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না বলে মনে করেন সাব্বির।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে এবারে মুন্নু সিরামিক, শরীফ মেলামাইন এর মতো নামি অনেক দেশি প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশ নেয়নি।