ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

এক বছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দ্বিগুণ প্রায়

Rate this item
(0 votes)

ঢাকা, আগস্ট ১৪ - এক বছরের ব্যবধানে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৬২৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশীয় মুদ্রার হিসেবে এর পরিমাণ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, গত বছর দু'দফা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি এতোটা বেড়েছে।

পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় গত অর্থবছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট দুই হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এর বিপরীতে সব মিলিয়ে এক হাজার ৪১১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ হিসাবে গত অর্থবছরে সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬২৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

এর আগে গত ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এক হাজার ৫৫১ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। আর মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল এক হাজার ২১৮ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আগের অর্থবছরের (২০০৬-০৭) তুলনায় গত অর্থবছরে (২০০৭-০৮) আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৪০ কোটি ১৩ লাখ ডলার (২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ)। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৯৩ কোটি ডলার (১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ)।

অর্থ উপদেষ্টা মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "গত বছরের শেষ দিকে পর পর দু'দফা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সিডরের কারণে সব ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে খাদ্য আমদানি আনেকখানি বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের অগ্নিমূল্য। চারশ ডলারের প্রতি টন চালের দাম গিয়ে ঠেকেছে এক হাজার ডলারে। জ্বালানি তেল আর সারের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এসব কারণে গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।"

গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "মূলত খাদ্য পণ্য খাতে আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেশি হয়েছে।"

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের তৈরি পোশাকের দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০০৬ সালে ২ দশমিক ৩ ডজন পোশাক রপ্তানি করে এক ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করা যেত। এখন এক ব্যারেল তেল আমদানি করতে চার ডজন পোশাক রপ্তানি করতে হয়।"

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের দাম এভাবে কমতে থাকলে চলতি অর্থবছরেও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, "আগে একটি টি-শার্ট রপ্তানি করে ১০ ডলার পাওয়া যেত। এখন ৮ ডলার পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় গত অর্থবছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।"

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি ফজলুল হক বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রেতারা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কমে যাচ্ছে।"

তবে অর্থ উপদেষ্টা ও গভর্নর বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে আমদানি ব্যয় কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি, আমন ফলনও ভালো হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য পণ্য ও জ্বালানি তেলের দামও কমতে শুরু করেছে।"