ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরমাণু কেন্দ্রের কাজ’

Rate this item
(0 votes)

এরপর ২০১৫ সালের মধ্যেই মূল চুল্লির কাজ শুরু হবে।

বুধবার আনবিক শক্তি কমিশনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দুই হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি পরমাণু ইউনিট নির্মাণের রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। গত ১৫ জানুয়ারি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের সময় প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি হয়।

 

এছাড়া মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় রাশিয়ার কাছ থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়াফেস ওসমান বলেন, “আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রকল্প এলাকার উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ আমরা শুরু করতে পারবো। এরপর ২০১৫ সালের মধ্যে মূল কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”

প্রস্তুতিমূলক কাজে ৫০ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হলেও মূল কেন্দ্র নির্মাণে কত ব্যয় হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

“তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা কম খরচেই করতে পারবো,” আশা ইয়াফেস ওসমানের।

তৃতীয় প্রজন্মের এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় খরচও কম পড়বে বলে জানান তিনি।  

প্রতিমন্ত্রী জানান, এক হাজার মেগাওয়াটের একটি ইউনিট নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যেই একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু হবে। ২০২০ সালের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কেন্দ্র নির্মাণে ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করবে রাশিয়া, যা সুদসহ সরকারকে পরিশোধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেখানো হয়।

আনবিক শক্তি কমিশনের প্রকৌশলী এম আলী জুলকারনাইন দেখান, সারা পৃথিবীতে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনায় মুত্যুর হার অন্যান্য কেন্দ্রের চেয়ে কম।

তার হিসাবে, দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এরপর রয়েছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শওকত আবকর বলেন, পৃথিবী জুড়ে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে। বর্মানে ৪৩৮টি কেন্দ্র চালু এবং ৬৩টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে।

রাশিয়ার নিজের দেশের বাইরেই প্রায় ১০০টি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ফলে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য আমাদের যেসব মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটানো হবে, তারাই পরে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আনতে পারবে।

কেন্দ্র থেকে ঝুঁকির বিষয়ে ইয়াফেস ওসমান বলেন, “আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।”

Last modified on Monday, 10 March 2014 01:21