ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

স্থলপথে সুতা আমদানি উন্মুক্ত করার দাবি বিকেএমইএ'র

Rate this item
(0 votes)

সুতার দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থলবন্দর দিয়ে নিট পোশাক শিল্পের এ কাঁচামাল আমদানির ওপর বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিকেএমইএ।

নিট শিল্প মালিকদের এ সংগঠনের সভাপতি ফজলুল হক বলেছেন, সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বস্ত্র শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে।

সুতার দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিকেএমইএ।

শনিবার বিকেএমইএ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল হক বলেন, "দেশে এর আগে কখনো সুতার দাম এত ছিলো না। প্রতি ঘণ্টায় সুতার দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে দেশের বস্ত্র শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে।"

"ভারতের তুলা রপ্তানি বন্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দেশের সুতা উৎপাদনকারী একটি গোষ্ঠী অতি মুনাফা করার জন্য অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়েছে", বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ফেব্র"য়ারিতে দেশে প্রতি কেজি সুতার দাম ছিলো ২ ডলার ৮৫ সেন্ট। ২১ এপ্রিল তা হয়েছে ৪ ডলার ২০ সেন্ট। গত ১০ দিনে দাম বেড়েছে ৬০ সেন্ট।

তুলার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সুতার দাম বৃদ্ধির অসঙ্গতি তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ফেব্র"য়ারিতে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিলো ৮০ দশমিক ০৫ সেন্ট এবং ২০ এপ্রিল তা হয়েছে ৮৬ দশমিক ১ সেন্ট।

প্রতিবেশী দেশগুলোতে ৩ দশমিক ৬০ সেন্টে প্রতি কেজি সুতা পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে ফজলুল হক বলেন, "স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ওপর বাধা নিষেধ তুলে নিতে হবে।"

গত কয়েকবছর ধরে স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সুতা আমদানি বন্ধ রয়েছে।

সুতার দাম বৃদ্ধির রাশ টানতে মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারকে একটি মনিটরিং সেল গঠন করার অনুরোধ জানায় বিকেএমইএ।

ফজলুল হক বলেন, "বিশ্ব মন্দার প্রভাব এবং দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বস্ত্রখাত সমস্যার সম্মুখীন। এর ওপর সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোশাক শিল্প খাত হুমকির মুখে রয়েছে।"

উৎপাদন খরচের কারণে পোশাকের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকমাসে কয়েকশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠন সুতা আমদানি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সুতা উৎপাদকরা বলছেন, তা করলে দেশের সুতা শিল্প হুমকির মুখে পড়বে