ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমছে

Rate this item
(0 votes)

শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানির চিত্র খুবই হতাশাজনক।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় এই যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ কমেছে ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

অথচ ২০১০-১১ অর্থবছরের এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছিল ৮২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আর ওই অর্থবছরের পুরো সময়ে দেশের বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছিল ৪০ দশমিক ২০ শতাংশ।

ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থার অভাব মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও শিল্পমালিকরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ সংকোচন নীতি (মুদ্রানীতি) এবং ডলারের দর বৃদ্ধিও কারণ বলে মনে করছেন তারা।

শিল্প খাতের হতাশাজনক পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজেটে ঘোষিত ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জন নাও হতে পারে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অস্থিরতা চলছে, তার নিরসন না হলে আগামীতেও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি আরো কমবে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ১২২ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ কোটি ৭৩ লাখ ডলার বা ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ কম।

২০১০-১১ অর্থবছরে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির এলসি খোলা হয়েছিল ১৮২ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

এ সময়ে টেক্সটাইল মেশিনারি আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। তৈরি পোশাক শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার। প্যাকেজিং শিল্পের যন্ত্রপাতির এলসি কমেছে ৬৫ লাখ ডলার। এছাড়া অন্যান্য শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশে বিনিয়োগের অবস্থা এমনিতেই নাজুক। এরপর মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া পরিস্থিতি আরো খারাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারি-জুন মেয়াদের সঙ্কোচনমূলক যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে তাতে বেসরকারি খাতে ঋণ কমানোর কথা বলা হয়েছে। এর ফলে নতুন শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য শিল্প উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না। স্ব^াভাবিক কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমছে।”

“এছাড়া ডলারের দাম বেশি। যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য অনেক বেশি অর্থ লাগছে। এত বেশি অর্থ ব্যয় করে যন্ত্রপাতি এনে শিল্প স্থাপন করলে লাভ হবে কি না- সে বিষয়ে শিল্প-মালিকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। এক ধরনের আস্থাহীনতায় ভুগছেন তারা,” বলেন জায়েদ বখত।

দেশের চলমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।

অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে- জানতে চাওয়া হলে জায়েদ বখত বলেন, “মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমলে দেশে বিনিয়োগও কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন নাও হতে পারে।”

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থার অভাবই ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমার প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি।

“গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটসহ আমাদের অবকঠামো সমস্যার অন্ত নেই। এর পর আমাদের তৈরি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপের অর্থনীতিতে সঙ্কট চলছে। এ অবস্থায় আমরা শিল্প স্থাপন করতে সাহস পাচ্ছি না।”

এর সঙ্গে জমির দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হারও ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করছে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি।

দেশে শিল্পায়নের স্বার্থে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট(নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।