ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ক্রেতারা ‘ফিরছেন’, পোশাক খাতে স্বস্তি

Rate this item
(0 votes)

তারা বলছেন, কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও ভবন ধসে শ্রমিকদের প্রাণহানি, মজুরি নিয়ে অসন্তোষ-অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিদেশি ক্রেতা হাতছাড়া হওয়ার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল এখন তা ‘অনেকটাই’ কেটে গেছে।

তৈরি পোশাক খাতের জন্য মজুরি কাঠামো ঘোষণার পর শ্রমিক অসন্তোষ এবং নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক বিদেশি ক্রেতা পণ্য ক্রয়ের অর্ডার দিতে গড়িমসি করছিলেন।

নতুন বছরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই সব ক্রেতা পুরো বছরের অর্ডার দেয়ার জন্য আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।

তাছাড়া রপ্তানি বাড়াতে সরকার নেয়া বেশ কিছু উদ্যোগে এই খাতে পরিবেশ উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় ক্রেতারা আগ্রহী হয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন সরকার গঠনের পরপরই একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এসেছে ক্রেতাদের মধ্যে। অনেক ক্রেতা আমাদের সাথে কথা বলছেন। অনেকে দেশে আসতে শুরু করেছেন।”

তবে শিল্পবান্ধব পরিবেশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারলে ক্রেতাদের টেকসই আস্থা অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

“এই পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে।”

গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ওই ভবনের কয়েকটি পোশাক কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পর দেশের কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করতে উদ্যোক্তাসহ সরকার, আইএলও ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে কাজ করছে।

অন্যদিকে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং ভবন ধসের ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে শ্রমিক অসন্তোষ কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ফিরে আসছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

দেশের রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইএবির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নতুন করে ভরসা পাচ্ছি। বাজার হাতছাড়া হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। আশা করছি, এই স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সব পক্ষই উদ্যোগী হবে।

“বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তৈরি পোশাক শিল্পকে ঘিরে যেসব অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাবে এবং বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বড় ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি ইইউ জিএসপি সুবিধা বাতিলের শঙ্কা উড়িয়ে দেয়ায় আরো আশাবাদী হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন সরকার এসেছে, মন্ত্রীরা কাজ শুরু করেছেন। এই কারণে শুধু তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা নয়, পুরো ব্যবসায়ী সমাজ উৎসাহিত।”

বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশি পণ্যের জন্য অর্ডার দেয়ার বিষয়ে দুই ব্যবসায়ী নেতার মতো একই সুরে কথা বললেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক এই সভাপতি।

“তারা পুনরায় আলোচনা শুরু করেছেন। অনেকে ইতিমধ্যে অর্ডার দিয়েছেন,” বলেন তিনি।

তবে এই অবস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রে কতোগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আসিফ বলেন, “অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে পারছে না। তাদের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।”

তবে রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করতে সরকার এরইমধ্যে বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছে বলেও জানালেন ব্যবসায়ী নেতারা।

এসব সুবিধার মধ্যে টিটির মাধ্যমে রপ্তানিতে ৫ পাঁচ শতাংশ নগদ সহায়তা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুদহার কমানো, ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই অথবা ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং শিল্প পণ্য আমদানিতে আগাম মূল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।