ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘ড্যান মজিনার বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন’

Rate this item
(0 votes)

পোশাক শিল্প মালিকদের সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলায় বামপন্থী নেতাদের সমালোচনা করলেও একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে তারা চুপ থাকেন।

“আপনারা ট্রেড ইউনিয়ন, বামপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ড্যান মজিনা যখন গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হয়ে যান, তখন আপনারা কিছু বলেন না,” সোমবার সংসদ অধিবেশনে বলেছেন তিনি।

পোশাক শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে কথা বলে আসছেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও।

তৈরি পোশাক শিল্পের অস্থিরতার পেছনে রাষ্ট্রদূতের সাম্ú্রতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে বামপন্থী এই নেতা বলেন, “মালিকরা ষড়যন্ত্র খোঁজেন। যে ষড়যন্ত্র কারা করছে, তা তারা বলেন না। বলেন না যে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দকে ধমক দেন। এখন মালিকরা কিছু বলেন না।”

বেতন বাড়ানোর দাবিতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিক্ষোভে ইন্ধনের কথা বিভিন্ন মহল থেকেই বলা হচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বেতন বাড়ানোর দাবিতেই শ্রমিকরা বিক্ষোভে নেমেছেন। মালিক পক্ষের দাবি, এতে বিভিন্ন এনজিও ইন্ধন দিচ্ছে।

সরকারের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নাম উল্লেখ না করে প্রভাবশালী একটি দেশকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপি বলছে, এই অস্থিরতা ভারতের ইন্ধন রয়েছে।

মেনন বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে হাজার হাজার ডলার আসছে। সরকারের মাধ্যমেই সে অর্থ আসছে।”

পোশাক শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানানোর পাশাপাশি অর্ন্তর্বতীকালীন ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। শ্রমিকদের জন্য রেশন, যাতায়াত, চিকিৎসাসহ সরকারের খাস জমিতে বাসস্থান গড়ে তোলার পরামর্শও দেন তিনি।

সুরঞ্জিতে ‘ভয়’ মেননের

সংসদে বাজেট আলোচনায় দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়েও বলেননি ক্ষমতাসীন মহাজোটের নেতা মেনন।

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ নিয়ে আমি কিছু বলব না। এ নিয়ে কথা বললে প্রধানমন্ত্রী নাখোশ হন। সুরঞ্জিত বাবু দাঁড়িয়ে যান, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। কারণ, তার হারানো সাম্যাজ্য ফিরে পেতে হবে।”

বিস্তারিত কিছু না বললেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মেনন।

তিনি আরো বলেন, “রেন্টাল পাওয়ার সম্পর্কে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ যে ভুল ছিল, তা অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।”

কনকোফিলিপসকে বঙ্গোপসাগরে খনিজ অনুসন্ধানের ব্লক ইজারা দেওয়ার সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, “গ্যাস ও তেলের জন্য আমাদের সমুদ্রসীমা সাম্রাজ্যবাদীদের লীলাভূমিতে পরিণত করবেন না।”

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে আদিবাসী স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন না করার জন্য একটি সার্কুলার দিয়েছে। এতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে আদিবাসীরা রাষ্ট্রের মূল ¯্রােত থেকে বিচ্ছিন্ন হবে।”

নতুন অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন মেনন। পুঁজিবাজার নিয়ে তার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।

নতুন বাজেট নিয়ে মেনন বলেন, “গত তিন বছরের বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ওই সব বাজেটের এক ধরনের গরীবমুখীতা ছিল, কিন্তু এবারের বাজেটে চিত্রটা যেন পাল্টে গেছে। করারোপের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর ব্যবস্থাপনার আঘাতে পড়েছেন গরিব মানুষ। বাজেট বিত্তবানদের দিকে ঝুঁকেছে।”