ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

'পোশাক শিল্পে অস্থিরতায় তৃতীয় পক্ষ জড়িত'

Rate this item
(0 votes)

পোশাক শিল্পে অস্থিরতায় তৃতীয় পক্ষের জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার মে দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে, শ্রমিক সংগঠন এবং যে সব জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে সব জায়গার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে আমি জানতে পেরেছি- তৃতীয় পক্ষ এ রকম ঘটনা ঘটাচ্ছে।

"যারা জড়িত তাদের কিছু কিছু নাম আমি পেয়েছি, তাদের কর্মকাণ্ডের খতিয়ানও পেয়েছি। তারা দেশে কী করছে, বিদেশে ঘন ঘন কোথায় যাচ্ছে- তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।"

তবে এ তৃতীয় পক্ষ কারা, তা জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণসহ নানা দাবিতে গত কয়েকদিনে রাজধানীর মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করে পোশাক শ্রমিকরা। ওই বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করেই প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য।

শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ইতিমধ্যে বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুন কাঠামো ঘোষণা করা হবে। এ সময় পর্যন্ত শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

কোনো ধরনের উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছে। মজুরি কমিশন ও ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সুপারিশ পেলেই তা ঘোষণা করা হবে।

শিল্প রক্ষা করে দেশের উন্নয়নের চাকা গতিশীল রাখতে মালিক-শ্রমিকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "হঠাৎ হঠাৎ আন্দোলন দেখি, ভাংচুর দেখি। এতে শ্রমিকরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে জানি না। মালিকদের লোকসান তো হচ্ছেই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দেশের। কারণ রপ্তানিমুখী এ খাত থেকে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছি।

হাসিনা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, "যে প্রতিষ্ঠান রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা আপনাদের ওপরও বর্তায়। কারখানার নিরাপত্তার দিকে আপনাদেরও দৃষ্টি দিতে হবে। কোনো লোক উস্কানিমূলক কিছু করে কি না সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।"

একইসঙ্গে শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হাসিনা বলেন, শ্রমিকরাই মালিকদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ব্যবস্থা করছে। তাই তাদের ন্যূনতম জীবন ধারণের ব্যবস্থা মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের সমস্যাগুলো সরকারের জানা আছে।

পোশাক শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এক্ষেত্রে সরকারের গৃহায়ন তহবিল থেকে অর্থ সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।

শ্রমিকদের কণ্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শ্রম আইন সংশোধনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। শ্র্রমিকের স্বার্থ রক্ষার দিকে নজর দিয়ে কাজটি করা হবে। এছাড়া শিশুশ্রম নিরসন নীতিমালা করা হয়েছে। শ্রম নীতিকে যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে বাংলাদেশের ৭০ লাখ জনশক্তি কাজ করছে জানিয়ে তাদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বমন্দা ও খাদ্য ঘাটতির মধ্যে সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম উপায়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র হয়েছে, আমরা তা মোকাবেলা করেছি। ইতিমধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেছি।

হাসিনা বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কল কারখানা বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে কর্মহীন করা হয়েছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া আদমজী পাট কল নিয়েও আওয়ামী লীগের আগের আমলে পরিকল্পনা ছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী পাটের চাহিদা বাড়ায় পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। চা ও চিনি খাতের উন্নয়নেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়াত্ত কল-কারখানা সংলগ্ন কিছু এলাকা বেসরকারি খাতের জন্য ছেড়ে দিয়ে সে সব স্থানে শিল্প কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।


রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মে দিবস উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা বক্তব্যের শুরুতেই ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে আট ঘণ্টা কর্মসময়ের দাবিতে আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, এ দিনটি খেটে খাওয়া মানুষের। একটা সময় ছিলো শ্রমিকদের নির্দিষ্ট মজুরি ছিলো না, ছিলো না নির্দিষ্ট সময়। আন্দোলন করেই তারা তা আদায় করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের চাকা সচল রাখে শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষ। কৃষি থেকে শুরু করে কল কারখানায় তারা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে, তাদের অবদানেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাই।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি গগন রাজবিহারী, এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার।

শ্রমিক লীগ সভাপতি শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরে তা সমাধানে সরকারের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীজী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর গত বছর মে দিবস উপলক্ষে পল্টন ময়দানে শ্রমিক লীগের শ্রমিক-জনসভায় শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।