ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বিদেশি ক্রেতাদের জন্য 'সর্বজনীন আচরণবিধি' প্রণয়নের আহ্বান

Rate this item
(0 votes)

'কমপ্লায়েন্স' কারখানার ব্যাপারে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য 'সর্বজনীন আচরণবিধি' প্রণয়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে 'সোস্যাল কমপ্ল্যায়েন্স' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।

এতে শ্রমিকদের বেতন ভাতা বাড়ানো ও 'ভদ্রোচিত' চাকরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের 'এথিক্যাল বায়িংয়ের' পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মূর্শেদী বলেন, "বায়াররা কারখানাটি কমপ্ল্যায়েন্স কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একাধিকবার কারখানা পরিদর্শন করেন। এজন্য প্রতিবার খরচ হয় দেড় থেকে আড়াই হাজার ডলার। এ ছাড়া বায়াররা এলে পুরোদিন কারখানায় থাকে, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। এতে স্বাভাবিক উৎপাদনও ব্যাহত হয়।"

এ ব্যাপারে বিকল্প পদ্ধতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বায়ারদের জন্য একটি 'সর্বজনীন আচরণবিধি' প্রস্তুত করে দেওয়া যায়। তারা নির্দিষ্ট বিষয় দেখবে। এছাড়া দেশের একটি সংস্থা পোশাক শিল্পের কমপ্ল্যায়েন্সের ব্যাপারে বায়ারদের একটি সার্টিফিকেট দিবে। এটি অনেকটা আইএসওর (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্টান্ডারডাইজেশন) সার্টিফিকেটের মতো হবে।

দেশের পোশাক শিল্পের ৯০ শতাংশই কমপ্ল্যায়েন্স কারখানা হয়ে গেছে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

ইউরোপিয়ান ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের 'বিজনেস সোস্যাল কমপ্ল্যায়েন্স ইনিশিয়েটিভ' আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।

তিনি বলেন, "গার্মেন্টস সেক্টরে কাজের যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্র"তিবদ্ধ। দেশের প্রত্যেকটি গার্মেন্টস কারখানায় শতভাগ কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।"

ক্রেতাদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) পরিচালক আব্দুল মোমেন বলেন, "কারখানা কমপ্ল্যায়েন্স করার ব্যাপারে বায়ররা তাদের শর্ত সহজ করতে পারে এবং অন্যান্যভাবে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারে।"

জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ চন্দ্র শ্রমিকদের বেতন ভাতা বাড়ানো এবং 'ভদ্রোচিত' চাকরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিদেশি ক্রেতাদের এথিক্যাল বায়িংয়ের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "ক্রেতারা অন্যান্য দেশ থেকে যে দামে কেনেন বাংলাদেশ থেকেও তারা যেন একই দামে কেনেন। বায়াররা যদি কম দামে পোশাক কেনে তাহলে শ্রমিকদের ওপর এর প্রভাব পড়বে।"

এ ছাড়া রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করাসহ অনুষ্ঠানে নারী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের সাংসদ সারা বেগম কবরী।