ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

সনদ ছাড়া এমএলএম ব্যবসায় ১০ বছরের দণ্ড

Rate this item
(0 votes)

সরকারের নিবন্ধন সনদ ছাড়া এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বহুধাপ বিপণন পদ্ধতি (এমএলএম) কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রম চালালে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ গত মঙ্গলবার জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় জনস্বার্থে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান

এই ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, ৯০ দিনের মধ্যে তাদের সনদের জন্য আবেদন করতে হবে।
যদিও এ-সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মাহবুব আহমেদ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘অনেক সময় আইন করতে কিছুটা সময় লাগে। এ অবস্থায় যদি এক মাস আগেও এমএলএম কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোকে আইনের আওতায় আনা হয়, তাহলে সেটি ভালো না? এ-সংক্রান্ত আইনও হবে। কিন্তু তার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা মনে হওয়ায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।’
নতুন এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত অপরাধগুলো আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনে এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে এক বা একাধিক প্রশাসক নিয়োগেরও বিধান রয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বহুস্তর বিপণন পদ্ধতির আওতায় পিরামিড-সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম চালানো যাবে না। এমনকি অবস্তুগত বা অলীক পণ্য এবং সময়ের ধারাবাহিকতা বা পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিপণনযোগ্য হবে, এমন কোনো পণ্য বা সেবা বিপণন করা যাবে না।
বহুস্তর বিপণন কার্যক্রমের আওতায় সুনির্দিষ্ট আট ধরনের পণ্য বা সেবা বিপণন কার্যক্রম চালানো যাবে। সেগুলো হলো গৃহস্থালি, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, হোম এপ্লায়েন্স, প্রসাধন ও টয়লেট্রিজ, হারবাল, টেলিযোগাযোগ সেবা বা এ খাতের ব্যবহারযোগ্য, প্রশিক্ষণসংক্রান্ত এবং কৃষিজ ও কৃষিজাত পণ্য।
এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের কাছ থেকে সনদ পাওয়ার আগে আগ্রহীদেরকে কোম্পানি আইনের অধীনে আলাদা কোম্পানি গঠন করতে হবে। সেই সঙ্গে সনদ পাওয়ার আবেদনের সঙ্গে ১৬ ধরনের তথ্যসংবলিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। প্রতিটি সনদের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। পরবর্তীতে এই মেয়াদ নবায়নের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণে সনদ বাতিলের বিধানও সংযোজিত রয়েছে অধ্যাদেশে।
বহুস্তর বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, মোড়কজাত ছাড়া এই পদ্ধতিতে কোনো পণ্য বিক্রি করা যাবে না। মোড়কের গায়ে অবশ্যই পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও দেশের নাম, ওজন, পরিমাণ ও ব্যবহার বিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উত্পাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ বা ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টির মেয়াদ, পণ্যের গুণগত মানসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এই বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি বাসায় বাসায় বা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পণ্য বা সেবা বিক্রিকে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। বাসা বা বাড়িতে গিয়ে কাউকে পণ্য বা সেবা কেনার জন্য বাধ্য করা হলে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বহুস্তর বিপণন কার্যক্রমের আওতায় এমন কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করা যাবে না, যার বাস্তব কোনো উপস্থিতি নেই। যদি সেটা করা হয়, সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের জন্য নানা মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থবছর শেষে বহুস্তর বিপণন কোম্পানিগুলোর বার্ষিক লেনদেন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।