ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আমদানি শুল্ক ফাঁকি দেওয়াই বাংলাদেশে বিরাট দুর্নীতি

Rate this item
(0 votes)

বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা চীনের চশমা রপ্তানিকারকদের প্রতি চশমার জন্য মাত্র এক ডলার দরে চালান নির্ধারণ করার জন্য বলে থাকে। বাস্তবে দুই পক্ষই দুই থেকে ১০ ডলারে এই লেনদেনে সম্মত হয়। তাই বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা প্রকৃত আমদানি শুল্কের ভগ্নাংশ প্রদান করে থাকে।
অন্যদিকে চীনা রপ্তানিকারকেরা মূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে যারা এ ধরনের মিথ্যা ঘোষণা দিতে চায় না, প্রতিযোগিতায় তাদের চেয়ে এগিয়ে যায়।
চশমার এই দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকী বলেছে, এভাবেই আন্তর্জাতিক

বাণিজ্যে জালিয়াতি বা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে শুল্ক।
ইকোনমিস্ট-এর ৩ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি ৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করেছে। অথচ এটা বিস্ময়কর যে দাতারা এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির প্রতি খুব কম নজর দিয়েছে।
ইকোনমিস্ট-এর মতে, এই দুর্নীতি ঠিক করা বা জ্বালিয়াতির অবসান ঘটানো গেলে বাংলাদেশ সরকারের হাতে বিপুল অর্থ আসত, যা দিয়ে সহজেই স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় দ্বিগুণ করা সম্ভব। আর সম্ভব প্রতি দুই বছর পর পর পদ্মা সেতুর মতো বিরাট অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় বহন করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকেরা চশমাপ্রতি বৈধ পথে (ঋণপত্র) মাত্র এক ডলার পরিশোধ করেন। আর বাকি নয় ডলার পর্যন্ত হুন্ডি প্রথায় শোধ করা হয়। আমদানিকারক বাংলাদেশের একজন হুন্ডি ব্যবসায়ীকে সমপরিমাণ টাকা প্রদান করেন। দেশের বাইরে যেমন দুবাইয়ে আরেকজন হুন্ডি ব্যবসায়ী এর বিপরীতে আমদানিকারকের বিদেশে সংরক্ষিত হিসাবে নগদ নয় ডলার দিয়ে দেন। সেখান থেকে চীনা রপ্তানিকারককে অর্থ দেওয়া হয়। এভাবে বাংলাদেশের বাইরেই লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা মূল বাণিজ্যিক লেনদেনের হিসাবে আর আসে না।
ইকোনমিস্ট বলছে, এভাবে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ও মূল্য কম দেখানো অর্থের পরিমাণ বিরাট।
সাময়িকীটির প্রতিবেদন অনুসারে, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ায় আমদানিকারকেরা ব্যয়বহুল উৎস থেকে পণ্য সরবরাহ নিতে পারে, যা অর্থের অপব্যয় ছাড়া কিছু নয়। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ায় সমস্যাটিও প্রকট হয়েছে। ২০০২ থেকে ২০১২ সময়কালে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাত গুণ বেড়ে ৮৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মূল্য কমিয়ে দেখা আমদানির পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উচ্চ আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে এ ধরনের জালিয়াতি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বলে ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে।