ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘উৎপাদন বাড়ালে মৎস্য খাতে বিপ্লব ঘটবে’

Rate this item
(0 votes)

চাষের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়াতে পারলে দেশে মৎস্য খাতে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী সায়েদুল হক।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) এবং বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ফোরামের (বিএফআরএফ) মধ্যে চুক্তি সই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।বাংলাদেশে মৎস্যসম্পদের দ্রুততর এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা সংস্থা, মৎস্য নীতিমালা প্রণয়নকারী বিভাগ এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটি সাযুজ্যপূর্ণ যোগসূত্র স্থাপনের লক্ষ্যে এ চুক্তি সই করা হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মাছের চাহিদা ৪২ থেকে ৪৩ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু সে অনুযায়ী আমাদের উৎপাদন খুবই কম।

মাছের খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ধানের কুড়া ভারতে রপ্তানি বন্ধের আবেদন করা হয়েছে। আশা করি, কুড়া রপ্তানি বন্ধ হলে মাছের উৎপাদন খরচ কমে যাবে।

তিনি বলেন, গবেষকরাই পারবেন সভ্যতার বিকাশ ঘটাতে। কারণ তাদের গবেষণা অব্যাহত থাকলে মাছ চাষের উন্নয়ন সম্ভব। যদি মৎস্য ও পশুসম্পদ রক্ষা করা না যায় তাহলে বাংলাদেশের খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এখন আছে তা বিলীন হয়ে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, মাছের খাদ্য উৎপাদন করার জন্য কী কী উপাদান লাগে তার একটা সূচি তৈরি করে যদি আমরা মাছের খাদ্য উৎপাদন করি তাহলে মাছ চাষে খরচ অনেক কম হবে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুলতান হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করা সবচেয়ে ভালো। তবে সমন্বয় করা কঠিন।

তিনি দাবি করেন, মৎস্য খাতে সরকারি যে উপকরণ দরকার তা ঠিকমতো পাচ্ছেন না বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা।

তিনি আরও বলেন, মৎস্যজীবীদের সঠিকভাবে সহযোগিতা করলে এই খাত থেকে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মৎস্য খাতে ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রামবাংলার অনেক নারী মৎস্য চাষ করে স্বনির্ভর হয়েছে। আগে মাছের রোগ নির্ণয় করা যেত না, তাই এ খাতে অনেক ক্ষতি হতো। কিন্তু এখন ওয়াল ফিশের সহযোগিতায় মাছের ৭টি ভাইরাস চিহ্নিত করা গেছে। এর ফলে এখন মৎস্য খাতে উন্নতির পথ সুগম হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তার মন্ডল বলেন, বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন খরচ বেশি। বিদেশে মাছের উৎপাদন খুব কম। প্রযুক্তির অভাবে বাংলাদেশে মাছের খাদ্য অধিক পরিমাণ ব্যবহার করা হয়। যার করণে মৎস্য খাতে মুনাফার পরিবর্তে শুধু ক্ষতির সম্মখীন হতে হয়। যেখানে এক কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ উৎপাদন খরচ ১৮০ টাকা। কিন্তু ১ কেজি মাছের বিক্রি মূল্য ৯০ টাকা। প্রতি কেজি মাছের খাদ্য ক্রয় করতে খরচ ৫০ টাকা। এতে করে মাছচাষিরা মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মানুষকে মাছের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে এবং মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। না হলে চাষিরা মাছ চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসএফএফের সভাপতি ড. মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব ও পরিচালক ড. মাহামুদুল করিম, জাফর উল্লাহ্ খান প্রমুখ।