ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা অমীমাংসিতই থেকে গেল Featured

Rate this item
(0 votes)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্ট ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা) চুক্তির প্রথম বৈঠকে প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেকটাই কম হয়েছে। দেশটির বাজারে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের অর্জন অনেকটাই অমীমাংসিত থেকে গেল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রেপ্রিজেন্টিটিভ ইউএসটিআরসহ দেশটির অন্যান্য প্রতিনিধিরা বলছেন, জিএসপি অ্যাকশন প্ল্যানে বেঁধে দেয়া শর্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ‘বিশাল অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা এবং শ্রম আইনের বাস্তবায়নে আরও এগুতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল পাঁচটায়।

বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৬টায় টিকফা বৈঠকের সার্বিক দিক নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা এবং ইউএসটির’র অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মাইক ডিলানি।

অন্যদের মধ্যে এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার, ডেপুটি ইউএসটিআর মারা বার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ জেনাথন গোল্ডবার্গ, টবি গ্লাক্সম্যান, মাইকেল ও ডোনোভ্যান এবং টিমোথি ওয়েডিং প্রমুখ।

বৈঠকের বিষয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, এটা ছিলো আমাদের প্রথম বৈঠক। আলোচনা বেশ ফলপ্রসু হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ও জিএসপি অ্যাকশন প্ল্যানের বিষয়ে রিভিউ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া পণ্য ও সেবা বাজার প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তিগত সহায়তা, বালি ও ইস্তাম্বুল প্যাকেজের অগ্রগতি, ফায়ার সেফটি ও সরঞ্জাম, নারীর ক্ষমতায়ন, আন্তর্জাতিক মেধাসম্পদ আইন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্বে সঙ্গে উঠে এসেছে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দেশ থেকে তুলা ও ডায়াবেটিস ওষুধ আমদানির বিষয় উঠে এসেছে। তারা ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম আমদানিতে ট্যারিফ কমানোর প্রস্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মেধাসম্পদ আইনের লঙ্ঘন নিয়েও কথা উঠেছে। আমাদের দেশের তুলা আমদানিতে দুবার প্রি-শিপমেন্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটাতে একবার শিপমেন্ট করতে। এছাড়া বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ওষুধ ও ইনসুলিন রপ্তানিতে কিছু সুবিধা চায় যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএসটিআর প্রতিনিধি নেতা মাইক ডিলানি বলেন, অনেক দীর্ঘ সময়ের আলোচনা হয়েছে। আমরা খুবই আনন্দিত। সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান ভিত্তিতে আলোচনা হয়েছে। বড় আকারে দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগে সমস্যা দূর করার ব্যাপারেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বৈঠকে।

জিএসপি অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জিএসপি অগ্রগতির বিষয়ে বিরাট অগ্রগতি দেখিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দেশটিকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে কারখানায় শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত, কারখানা পরিদর্শন, ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শ্রম আইনের কার্যকারিতায় বাংলাদেশকে আরও অনেক কিছু করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাইরে টিকফা ফোরামে দ্বি-পাক্ষিকভাবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা পাবে কিনা বা এরকম কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে কিনা জানতে চাইলে ডিলানি সাংবাদিকদের বলেন, ইস্তাম্বুল প্যাকেজ, দোহা রাউন্ড থেকে শুরু করে বালি প্যাকেজের আওতায় উন্নত দেশের বাজারে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ডব্লিউটিও’র সিদ্ধান্ত।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় মোস্ট ফেবারড ন্যাশনস (সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক দেশ) হিসেবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে দুদেশই সমান বিবেচ্য। তবে চীনে রপ্তানি পণ্য অনেক বেশি হওয়ায় এতে বৈষম্য তৈরি হয় বলে জানান মাইক ডিলানি।

এদিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো নয়’- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এমন মন্তব্যে ড্যান মজিনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দিনদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। কেননা কিছুদিন আগে আমরা দ্বি-পাক্ষিকভাবে যৌথ নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে বেশ গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আর এখন টিকফা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সাব-সাহারা ও আফ্রিকার কিছু দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে ভালনারঅ্যাবল মনে করছে না। এ প্রেক্ষিত্রে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা দেয়ার অনুরোধ করেছি। এছাড়া বিশাল জনসংখ্যা বিবেচনা করেও এটি চাওয়া হয়েছে।’

‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বলেছি, শুধু কৃষির উপর নির্ভর করে আমরা আগাতে পারবো না। এজন্য আমাদের শিল্পায়ন দরকার। আর এজন্য রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এগুলো বিবেচনা করে আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেশটির প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছি এবং শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধার অনুরোধ জানিয়েছি। তারা বলেছেন, এগুলো বিবেচনা করে হবে।’ যোগ করে বাণিজ্য সচিব।