ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

চীনে সব পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানির প্রস্তাব বাণিজ্যমন্ত্রীর

Rate this item
(0 votes)

চীনে বাংলাদেশি সব পণ্য শুল্কমুক্ত কোটায় রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ চার দেশের সমন্বয়ে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে চীনের ইউনানন প্রদেশের গভর্নর লি জিহ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতে আমরা তামাক ও অ্যালকোহল ছাড়া মোট ২৫টি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করতে পারি। এজন্য চীনকেও আমরা বাংলাদেশি সব পণ্য শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করার প্রস্তাব দিয়েছি। তারা বিষয়ঠি বিবেচনা করে দেখছেন। আশা করি, চীনেও আমরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভারত ও চীনের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বাকি কাজ শেষ হবে।
তোফায়েল আহমেদ দাবি করেন, বিসিআইএম বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিকভাবে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
মন্ত্রী জানান, মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী করতে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। চীন সরকার সেখানে অর্থায়ন করতে চায়। এছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী কাঠামো দিতে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাতেও চীন অর্থায়ন করতে রাজি হয়েছে।
অন্যদিকে চীন সরকার কুনমিংয়ে বাংলাদেশের জন্য স্থায়ীভাবে একটি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন করার সুযোগ পাবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তার মধ্যে চীন প্রথম এবং ভারত দ্বিতীয়। প্রতিবছর আমরা চীন থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করি। কিন্তু এর বিপরীতে মাত্র ৫০ কোটি ডলারেরও কিছু বেশি পণ্য রপ্তানি করে থাকি সেদেশে।
“চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। এর প্রেক্ষিতে আমরা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”
এদিকে ইউনান প্রদেশের গভর্নর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মূলত ৬ থেকে ১০ জুন চীনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক উন্নয়ন ও জোরদারের লক্ষেও এ বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে।
লি জিহ্যাং আরও বলেন, বাংলাদেশ আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমরা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চাই। কেননা দেশটি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে খুব ভালো করছে। আর আমরা বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে দেশটির পাশে থাকতে চাই।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনে রাষ্ট্রদূত লি জুনসহ দেশটির ইউনান প্রদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাও ওয়েনগুও, একই প্রদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মহাপরিচালক জুও হং, উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের মহাপরিচালক ওয়াং জিলিয়াংসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।