ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

২৫ শে বৈশাখ: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী

Rate this item
(0 votes)

আমি এসেছি এই ধরণীর মহাতীর্থে এখানে সর্বদেশ, সর্বজাতি ও সর্বকালের ইতিহাসের মহাকেন্দ্রে আছেন নরদেবতা তারই বেদিমূলে নিভৃতে বসে আমার অহঙ্কার আমার ভেদবুদ্ধি ক্ষালন করবার দুঃসাধ্য চেষ্টায় আজও প্রবৃত্ত আছি। বিশ্বভারতীর গ্রন্থপ্রকাশ সমিতির অধ্যক্ষরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্য-পদ্য সমস্ত লেখা একসঙ্গে জড়ো করে বিশেষভাবে সাজিয়ে রবীন্দ্র-রচনাবলী প্রকাশের উদ্যোগ নিলে কবি নিজেই তার ভূমিকা এবং অবতরণিকাটুকু লিখে দেন। এই অবতরণিকা লিখতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, কবি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন রাষ্ট্র ছিল পরাধীন, চিন্তা ছিল প্রথাগত ও অনগ্রসর, বাংলাভাষা ছিল অপরিণত। তিনি একাধারে এই ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করার পাশাপাশি জাতির চিন্তা জগতে আধুনিকতার উšে§ষ ঘটিয়েছেন। বাঙালির মানস গঠনে পালন করেছেন অগ্রদূতের ভূমিকা। সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণের পথে অভিসারী হয়ে ওঠার প্রেরণা জোগানোর মধ্য দিয়ে বাঙালি মননকে বিশ্বমানে উন্নীত করে জাতিকে আবদ্ধ করে গেছেন চিরকৃতজ্ঞতায়।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে যে ঐশ্বর্য দান করেছেন, তাতে এই ভাষা জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, সকল ভাব-অনুভূতির প্রকাশ এবং নির্মল হাস্য-কৌতুকের বাহন হতে সমর্থ হয়েছে। দেড়শ’ বছর পেরিয়েও কবি আমাদের মাঝে চিরজাগরূক হয়ে আছেন।

চিরজাগরূক, বাঙালির আত্মিক মুক্তি ও সার্বিক স্বনির্ভরতার প্রতীক, বাংলাভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম নায়ক, কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ শ্রষ্টা, দ্রষ্টা ও ঋষিতুল্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবীর ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মূলত কবি হলেও বাংলা সািহত্যের সব শাখায় রয়েছে রবীন্দ্রনাথের সমান কৃতিত্ব। তিনি একাধারে রচনা করেন কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, সংগীত, নৃত্যকলা ও চিত্রকলা। তার কাব্যের অতি উচ্চমানের সংবেদনশীল, পরিশুদ্ধ ও সৌন্দর্য্যমণ্ডিত পঙ্ক্তির জন্য, যার মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার কাব্যিক চিন্তা-চেতনা নিজস্ব ইংরেজি শব্দে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছেন, যা পশ্চিমা সাহিত্যেরই একটি অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মূলত গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ বিশ্বে পরিচয় করি?য়ে দেয় রবীন্দ্রনাথকে। ১৯১৩ সালে তাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্যভাবে উদযাপন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ এ উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ ও রবীন্দ্রনাথ’।

রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি: প্রতিবারের মতো এ বছরও জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। বেলা ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। স্বাগত ভাষণ দেবেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। রবীন্দ্র স্মারক বক্তা অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী উপস্থিত থাকবেন। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব ছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবির চিত্রশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর ও খুলনার দক্ষিণডিহিতে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযোগ্য মর্যাদায় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে।