ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Saturday, 27 September 2014 23:46

আন্দোলনের ঘোষণা ফের ঈদের পর Featured

গত ঈদুল ফিতরে ঘোষণা দিয়েও মাঠে নামেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এবার আসন্ন কোরবানির ঈদের পর ফের সরকার পতন আন্দোলনের কথা বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকেলে জামালপুর জেলাস্কুল মাঠে স্থানীয় ২০ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা বহু আন্দোলন করেছেন, আমরা দেখেছি। ঈদের পর আন্দোলন করবো, এই অবৈধ খুনি হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা বিদায় করে সুশাসন, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো। আবার দেখা হবে রাজপথে।’

 

এর আগে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে বাদ রেখে দেশে নির্বাচন হবে না। যদিও ষড়যন্ত্র চলছে। এগুলো দিয়ে কাজ হবে না। আলোচনায় বসতে হবে। বিএনপির সঙ্গেই মীমংসায় আসতে হবে। এইজনসভা প্রমান করে দেয় সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। বিএনপিকে ভয় পায় তাই জোট ভাঙতে চায় নানা ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে চায়।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘আর কে আছে যে তাদের সাথে আলোচনা হবে। এই যদু মদু দিয়ে কিছু হয় না। চোর চোট্টাদের দিয়ে কিছু হয় না।’

 

সরকারের এজেন্সিদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি কারো নাম বলতে চাই না, সব এজেন্সিকে বলতে চাই আপনার একটু সতর্ক হোন। আমরাও সরকারে ছিলাম কিন্তু কোনদিন এজেন্সিগুলোকে এভাবে ব্যবহার করি নাই। এসব অবৈধ কাজ কারবার বন্ধ করেন, না হলে কিন্তু আপনাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। আপনাদেরকেও জবাব দিতে হবে।’

 

প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা, জোট ভাঙা, সরকারের এজেন্সিদের ভূমিকা, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, সরকারের দুর্নীতি, র‌্যাব, একে খন্দকারের বই, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, গুম খুন মামলা, অভিশংসন, সম্প্রচার নীতিমালাসহ

সরকারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সমালোচান করেন খালেদা জিয়া।

 

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে জামালপুরের কোনো উন্নতি হয় নাই। মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হলেও ত্রাণ দেয়া হয় নাই। নদী খনন করা হয় নাই।’

 

আওয়ামী লীগকে ছেঁচড়া দল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সরকার গণবিচ্ছিন্ন সরকার, তাই তারা নির্বাচন দিতে চায় না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। যারা লোকাল ইলেকশনে কারচুপি করে তাদের অধীনে জাতীয় নির্বাচন

সুষ্ঠু হতে পারে না। সেজন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন দরকার। সেই নির্বাচনে জনগণ যাদেরকে ম্যান্ডেট দিবে তারা সরকার পরিচালনা করবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ম্যন্ডেটবিহীনভাবে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়।’

 

তিনি বলেন, ‘ছিয়াশি সালে আমরা একসাথে ছিলাম, তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান। হাসিনা সেই নির্বাচনে গিয়েছিল, আমরা যাইনি। নির্বাচনে গিয়ে হাসিনা জাতীয় বেইমান হয়েছিলেন। সেই বেইমানরা ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’

 

জোট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে ভয় পায় তাই জোট ভাঙতে চায়। বিএনপি জোটের সাথে থাকলে আপনারা লাভবান হবেন। আওয়ামী লীগের সাথে থাকলে ক্ষতি হবে। বিএনিপ জোট ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে

না। বিএনপির আন্দোলন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

 

বিচার বহির্ভুত হত্যা ও গুমখুন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘র‌্যাবকে বাতিল করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় যাদেরকে ধরা

হয়েছে তাদের বিচার হচ্ছে না। লোক দেখানো তদন্ত হচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে তাদেরকে জামাই আদর করা হচ্ছে। মন্ত্রীর ছেলেও এর সাথে জড়িত। র‌্যাবের জিয়াকে রিমান্ডে নিলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। এতো মানুষ খুন করার পর সে চাকরিতে থাকার

কোনো অধিকার রাখে না।’

 

এসময় সম্প্রচার নীতিমালা, বিচারপতিদের অভিশংসন আইন সংশোধন, গুম-খুন, পদ্মাসেতু, ডেসটিনি গ্রুপ, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ সরকারের নানা দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন।

 

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে বিভিন্ন অর্থ কেলেঙ্কারির দায় স্বীকার করায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রশংসা করেন তিনি।

 

সমাবেশ শুরু আগে দুপুর সোয়া ২টার সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে জনসভা শুরু হয়। সভায় আরো রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য নীলুফার চৌধুরী মনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকু, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল হক, সুলতান মাহমুদ বাবু, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও আব্দুর রউফ তালুকদার প্রমুখ।

 

জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গণি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দীন মতিন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরিবে নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ।