ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Monday, 18 August 2014 23:38

সাড়ে তিন মাস পর বিএনপি নেতা মুজিব উদ্ধার Featured

প্রায় সাড়ে তিন মাস পর যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য  মুজিবুর রহমান মুজব ও তাঁর গাড়ি চালক রেজাউল হক সোহেল টঙ্গি থেকে উদ্ধার হয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় মুজিবকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী টঙ্গী এলাকায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বোরকা পরিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তাঁর শ্যালক লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।

আনোয়ার জানান, সকাল সাড়ে ৮ টায় টঙ্গীর অদুরে একটি নির্জন স্থানে বোরকা পড়া অবস্থায় মুজিবুর রহমান মুজিব ও তাঁর গাড়ি চালক রেজাউল হক সোহেলকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে মুজিব ও সোহেল একটি সিএনজিতে ওঠে দুপুরে গুলশান-১ এ তাঁর শ্যালক আনোয়ারের বাসায় আসেন।

তিনি জানান, মুজিব শারিরিক নির্যাতনের শিকারে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং তার মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করায় তাকে রাত ৯ টায় গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চালক রেজাউল হক সোহেলকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ব্যারিস্টার আনোয়ার।

মুজিবের ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় জানান, গেল ৪ মে সুনামগঞ্জ থেকে ফেরার পথে সিলেটের টুকের বাজার এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পোশাক পড়া কয়েকজন এসে তার গাড়ী থামায়।পরে চালক সোহেলকে কাগজপত্র বের করার কথা বলে তারা। কাগজ দেখানোর পর সকল কাগজই ভুয়া জানিয়ে তাকে অন্য গাড়ীতে ওঠায় এবং মুজিবের গাড়ীতে বাজে গন্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করে গাড়ীতে স্প্রে করে এরা, সঙ্গে সঙ্গেই মুজিব অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

৬-৭ ঘণ্টা পর একটি ঘরের মেঝেতে চোখ বাধা অবস্থায় রাখা হয় তাকে। ঐ সময় তাকে নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করে ১২ কোটি দেবার জন্য চাপ দেয়। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ৪ দিন পর তাকে আরেক দলের কাছে হস্তান্তর করে এরা। দ্বিতীয় দলের লোকজন তার সঙ্গে ভাল আচরণ করেছে। সময়মত খাবার-দাবার এবং পরিমিত খাবার দিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা ইংরেজি ভাষায় কথা বলেছে। এরাও তাকে ১২ কোটি টাকা দেবার জন্য চাপ দেয়।

রবিবার রাত ৩ টায় এই দলের লোকজন এসে তাকে প্রথমে দাঁড়ানোর জন্য বলে, পরে মুখে প্লাষ্টিকটেপ (কসটেপ) লাগায়। পরে সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচের তলায় নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে ওঠায়। প্রায় ১ ঘণ্টা গাড়ী চালানোর পর একটি সেতুর পাশে তাকে বোরকা পড়া অবস্থায় রেখে যাওয়ার সময় বলে ১০ মিনিট চোখ খুলবে না, কথাও বলবে না। ২-৩ মিনিট পর চোখ খুলে তিনি চালক সোহেলকে একই অবস্থায় দেখতে পান। পরে দু’জন মিলে একটি সিএনজিতে করে গুলশানে আসেন।

চালক রেজাউল হক সোহেলের বাবা জানান, ‘রাত ৯ টায় প্রথমে একটি টেলিভিশনের স্ক্রলে তারা খবর দেখতে পান। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয় তার ছেলেকে পাওয়া গেছে।’

গেল ৪ মে রবিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে গুম-খুনের প্রতিবাদে দলীয় কর্মসূচী শেষে সিলেটে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়েছিলেন এই বিএনপি নেতা। ৫৬ বছর বয়সী নিখোঁজ মুজিব ১ ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তানের জনক। স্ত্রী-সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা মুজিব। মাঝে মধ্যে দেশে আসলেও লন্ডন কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য তার। দৃশ্যমান ব্যবসার মধ্যে মুজিবের রেস্টুরেন্ট ও প্রপার্টি ব্যবসা উল্লেখযোগ্য। ‘নিখোঁজ’ মুজিবুর রহমানের ভাগনি জামাই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মুজিব নিখোঁজের একদিন পর (৫ মে’ ২০১৪) জিডি করেছিলেন।

এ ঘটনায় গত ১০ মে জড়িত সন্দেহে  জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আকবর চৌধুরীসহ তিন জনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া গত ১৯ মে মুজিবের খোঁজ নিতে বাংলাদেশে আসেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই সিক্স’র দুজন কর্মকর্তা।

ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের খেওয়ালিপাড়া গ্রামের মৃত আসদ আলীর ছেলে ‘নিখোঁজ’ মুজিব প্রায় ৫০ বছর ধরে লন্ডনে রয়েছেন। নিখোঁজের ৫ মাস আগে দেশে এসেছিলেন মুজিব। সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে গাড়ি চালক রেজাউল হক সোহেলসহ ৪ মে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন তিনি।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন তাকে ফিরিয়ে দেবার দাবিতে পথ অবরোধ, বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচী এবং কেন্দ্রীয় বিএনপিও তাকে ফিরিয়ে দেবার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে।

তাকে উদ্ধারে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশী পুলিশ নানা তৎপরতা চালায়। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেটসহ নানা স্থানে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সোমবার রাত পৌনে ১০ টায় বলেন, ‘গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে গুলশান থানা পুলিশের হেফাজতেই রয়েছেন মুজিব’।

 

 

 

Last modified on Monday, 18 August 2014 23:43