ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 08 August 2014 14:12

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আন্দোলনের প্রস্তুতি!

দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো আবারো নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করছে।

গত বছর হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে ১৩ দফা দাবি নিয়ে ইসলামি দলগুলো একত্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। তখন কিছুটা হলেও সরকারকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেল তারা। দেশের সাধারণ জনগণও ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের কারণে তাদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছিল।

এবার পুরোনো সেই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে সরকারের অনিয়ম-আলেম ওলামাদের ওপর যুলুম নির্যাতন, জাতীয় ও ধর্মভিত্তিক ইস্যুগুলো নিয়ে রাজপথে নামতে চায় ইসলামী দলগুলো। এ লক্ষ্যে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিক ভাবে শলাপরামর্শও সেরে ফেলেছেন। তারা একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে চায়। তবে আদর্শিক ও মতপার্থক্যের কারণে মৌলিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি দলগুলো।

 

জানা গেছে, রমজানে ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলাপ-আলোচনায় এই প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন দলগুলোর নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। সেখানে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

 

এ সব দলের নেতারা মতে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কারণে বর্তমান সরকার নৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ এই সরকারের প্রতি কেবল বিরক্তই নন, তারা চলমান শাসনতান্ত্রিক অবস্থার পরিবর্তনও চান। একই সঙ্গে সংবিধান থেকে আল্লার ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস তুলে দেয়াসহ ধর্মীয় বিষয়গুলোতে সরকারের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ মেনে নিতে পারছেন না।

 

এ লক্ষেই ইসলামী দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম, মজলিসে শূরা বা নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকেছে। বুধবার বিকেলে খেলাফত আন্দোলনের বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বৈঠক হবে। এসব বৈঠকেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

 

ইসলামপন্থীদের এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় কয়টি দল একত্রিত হয়েছে বা কতগুলো দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে তা কেউ বলতে চায়নি। শুরুতেই অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনে যাদের নীতিগত সমর্থন রয়েছে তাদের সঙ্গেই আলোচনা চলছে।

 

চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, তাদের সঙ্গে এখনো কেউ আলোচনা করেনি। প্রস্তাবও দেয়নি। যদি কেউ আলোচনা করতে চায় তাহলে আলোচনার বিষয় দেখে ফোরামে সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

এই দলের যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, "ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। চাই একটি আদর্শিক ঐক্য।"

 

খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, "ঐক্য প্রক্রিয়া আগেও চলছিল, কিন্তু এবার জোড়ালোভাবে আলাপ-আলোচনা চলছে। সরকারের গতি-প্রকৃতি লক্ষ্য করেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।"

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, "দেশের বর্তমান যে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা তা নিয়ে ইসলামী দলগুলো গভীরভাবে ভাবছে। এই অবস্থায় করণীয় নিয়ে দলগুলোর নেতাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।"

 

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, "আমাদের (ইসলামী দল) মধ্যে পারস্পারিক আলোচনা চলছে। এই ঐক্য প্রক্রিয়া সব সময়ই চলে আসছে। কখনো এটা গভীর হয় আবার কখনো স্লো হয়ে যায়।"