ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 24 July 2014 23:59

প্রতিবাদ করায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন ছাত্র বহিষ্কার!

কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লিফট, এয়ার কন্ডিশন এবং স্টাডি রুমের সংষ্কারের দাবিতে ফেসবুক ইভেন্ট এর মাধ্যমে বেশ কিছুশিক্ষার্থীআন্দোলনে নামেন। অসহনীয় গরমে তাদের দাবি ছিল ক্লাস রুম এর এয়ার কন্ডিশন গুল ঠিক করে দেওা। প্রশাসনকে বেশ কয়েকবার লিখিত ভাবে জানানো হলেও কোন কাজ না হওয়ায় ছাত্র ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্রাউন্ড এ একত্রিত হয়ে স্লোগান দেওা শুরু করল। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিনশ ছাত্র ছাত্রী আন্দলনে যোগদান করত। এভাবে চার থেকে পাঁচদিন আন্দোলন করায় প্রশাসন চাপের মুখে পরে সব ক্লাস রুম এর এ সি গুল সচল করা শুরু করে।

কিন্তু কিছুদিন পর ই আন্দোলনের প্রধান ৬ জন সিনিওর ছাত্র কে নিয়ে ভারসিটি তে মিটিং হল যার ফলাফল ছিল যে তাদের মধ্যে তিন জন কে বহিষ্কার করার আদেশ। উল্লেখ্য যে, এই তিন জন সিনিওর ছিল বলে বিভিন্ন সময় ভার্সিটির টিচারদের সাথে আন্দোলনের বেপারে বিভিন্ন কথা বলতেন এবং এগিয়ে যেতেন।

বহিষ্কার হতে যাওয়া ৩ শিক্ষার্থী হচ্ছেন, শেষ সেমিস্টারের তড়িৎ কৌশল বিভাগেএ ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ জাকারিয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শেষ সেমিস্টারের ছাত্র কাজি মাহবুবুল হাসান তমাল এবং ব্যবসায় প্রশাসন এর ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র তানভীর আহমেদ সিদ্দিকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নবদেশকে বলেন –তখন ক্লাস করতে আমাদের খুবই সমস্যা হত। কোন ক্লাস এই এ সি চলত না এবং শিক্ষকরা লেকচার বলতে অসুবিধা হয় এই অজুহাতে ফ্যানও বন্ধ রাখত সবসময়। তাই সকল ছাত্রদের আগ্রহেই আন্দলের ডাক দেওা হয় যা প্রাথমিক ভাবে এ সি সচল এর দাবিতে হলেও পরবর্তীতে লিফট ও স্টাডি রুম এর সংস্কারও যোগ হয়। আন্দোলনে আমরা সফলও হই তবে হটাথ এভাবে তিন জন ছাত্রকে বহিষ্কার কোন ভাবেই মেনে নেওা যায়না। বহিষ্কার করলে আমরা যারা যারা আন্দোলন করেছিলাম অর্থাৎ প্রায় ৩০০ স্টুডেন্ট কেই বহিষ্কার করা উচিত।

আরেক ছাত্র বলেন, তখন গরমের মধ্যে প্রায় ২ মাস আমাদের ক্লাস এর এ সি গুল বন্ধ থাক্লেও ফ্যাকাল্টি, ভিসি,রেজিস্টার, চেয়ারম্যানসবার রুম এর এ সি ঠিক ই সচল থাকতো। আমার কথা হল যে আসলেই যদি এ সি তে সমস্যা হত তাহলে পুরো ভার্সিটিতেই বন্ধ থাকতো বরং শুধু মাত্র ক্লাস রুম এ নয়। আমার ধারনা এ সি গুল বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্যই বন্ধ রাখা হত।
তিনি আরো বলেন যে প্রায় সাত লক্ষ টাকা খরচ করে এখানে একজন পাশ করে, তাও যদি আমাদের ক্লাস রুম এ এ সি, একটা স্টাডি রুম, লিফট এসকল সাধারণ সুবিধা দেওার প্রতিশ্রুতি দিয়েও না দেয় তাহলে তা সত্যিই লজ্জাজনক।

বহিষ্কার হতে যাওয় তানভির আহমেদ সিদ্দিক এর ফেসবুক স্ট্যাটাস টা গতকাল ছিল এরকম ‘Keep me in your prayers dear brother and sister..Iwanna continue my study, wanna. be a banker,wanna support my family’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরাট অভিযোগ আসছে ছাত্র ছাত্রী দের নিকট থেকে।

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ সর্ম্পকে কথা বলতে কয়েকবার উপাচার্য অধ্যাপক আহমেদ শফির অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।