ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 03 October 2014 22:01

সরকার নয়, লতিফ সিদ্দিকীই বেকায়দায় আছে- প্রধানমন্ত্রী Featured

অবিবেচকের মতো কথা সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিসভায় থাকবেন না।

হজ নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্য নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে শুক্রবার বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেটা আমি বলেছি সেটাই করব। তাকে মন্ত্রিসভায় রাখব না। সে থাকবে না।

কবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মন্ত্রীকে বিদায় দিতে হলে কিছু নিয়ম মানতে হবে। আমি নির্দেশ দিলে রিজাইন (পদত্যাগ) করতে হবে। নইলে বিদায় করে দিতে হবে। কিন্তু বিদায় দিতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে ফাইল পাঠাতে হবে। রাষ্ট্রপতি হজে গেছেন। আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ফাইল তৈরি করে রাখতে বলেছি, তারা ফাইল তৈরিও করেছে।

 

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাদ দিতে হলে তা নিয়ে দলে আলোচনা করতে হবে। অভিযোগ তুলে ধরে আলোচনা করতে হবে। ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্য নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে আসা এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অন্তত দুই ডজন মামলা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে।

 

 

বিএনপি এবং কয়েকটি ইসলামী সংগঠন ওই বক্তব্যের কারণে লতিফকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছে।

 

 

সেদিন নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।

 

 

তার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

 

ওই ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রডাকশন নাই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।

 

 

ওই বক্তব্য নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে নেই দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বেকায়দায় পড়েছে বলে আমি মনে করি না। উনি (লতিফ সিদ্দিকী) নিজেই বিপদে পড়েছেন। উনি যা বলেছেন এজন্য উনাকেই খেসারত দিতে হবে। উনি বেকায়দায় পড়েছেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে কি বলল না বলল তা বড় কথা নয়, আমার জনগণের উপর ভরসা আছে। সাধারণ মানুষ ভুল করেন না..., তারা আমার মূল ভরসার জায়গা। আওয়ামী লীগ ও সরকার বিপদে নেই। উনি (লতিফ সিদ্দিকী) নিজেই বিপদে আছেন।

 

 

মন্ত্রিসভার সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হজ আর ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান।

 

 

তিনি বলেন, সবাইকে হজের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সবাই যাতে সহি সালামতে দেশে ফিরে আসেন সেই কামনা করছি। সবাইকে ঈদের আগাম মুবারকবাদ জানাচ্ছি। তার এই সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

 

 

প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। পরে সাংবদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।