ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Tuesday, 30 September 2014 22:25

লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতির ‘সিদ্ধান্ত’! Featured

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ‘সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হতে পারে। হজ, তাবলিগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে নিউইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্যের পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঢাকায় অবস্থিত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সিদ্দিকীর অব্যাহতির সম্ভাবনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে লতিফ সিদ্দিকীর অব্যাহতির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যা অবধি জানানো হয়নি।

 

ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন বিষয়টি তিনি নানা মাধ্যমে শুনেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে সুষ্পষ্ট কোনও নির্দেশনা মঙ্গলবার সন্ধ্যা অবধি আসেনি।

 

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের কোনও সদস্যের নিযুক্তি বা অপসারণ একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে প্রধানমন্ত্রী এ মুহুর্তে দেশে না থাকায় সুনির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যান। সেখান থেকে মঙ্গলবার তিনি লন্ডন পৌঁছেছেন। আগামীকাল বৃহষ্পতিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা।

 

এ সফরকালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন।তবে তিনি লন্ডনে যাননি।

 

গত রবিবার নিউইয়র্ক টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামায়াতের বেশি বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনও কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।’

 

হজ প্রচলনের কারণ বলতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি।

 

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনও কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’

 

লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? জয় ভাই কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ারও কেউ নন। তিনি পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার।’

 

এদিকে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামিক দলগুলো লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি তোলে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জাতীয় পার্টি লতিফকে গ্রেফতারেরও দাবি জানিয়েছে।