ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Monday, 08 September 2014 16:28

এই বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে Featured

বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়ার বার্তা দিয়ে দুই দিনের সফর শেষে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবে ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আবেকে বিদায় জানান।

জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ সফর করলেন শিনজো আবে।

শেখ হাসিনার টোকিও সফরের চার মাসের মধ্যে নিজের ঢাকা সফরের কথা তুলে ধরে আবে বলেছেন, এই বছরটি বাংলাদেশ ও জাপানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হল।

অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে নির্বাচনে জাপানকে সমর্থন করে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবে। তার দেড়শ সফরসঙ্গীর মধ্যে জাপানের প্রথম সারির কোম্পানিগুলোর ২২ জন প্রধান নির্বাহী ছিলেন।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আগামী ৪-৫ বছরে  প্রায় ৬০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণেরও আশ্বাস দেন আবে।

শনিবার দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের পর ১০ পৃষ্ঠার এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন হাসিনা ও আবে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ়, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পরস্পরের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দুই দেশের নাগরিকদের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের জাপানে ভিসা ছাড়াই যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

গত মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যে ‘সমন্বিত অংশীদারিত্বের’ সূচনা হয়েছিল তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা পৌঁছানোর পর প্রায় ২২ ঘণ্টার সফরের প্রথম বক্তৃতায় জাপানকে এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন শিনজো আবে।
মন্দাক্রান্ত জাপানি অর্থনীতিকে চাঙা করতে আবে যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তা ‘আবেনোমিকস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

নিজের নীতির সফল প্রয়োগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতের মধ্যবর্তী দেশ বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাপানের অর্থনীতিকে চাঙা করতে আমি আবেনোমিকসের প্রয়োগ ঘটাচ্ছি। এজন্য জাপানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি আজ বাংলাদেশ সফর করছি।”

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা দিচ্ছে জাপান।

বঙ্গোপসাগরের তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট-বিগ বি) প্রতিষ্ঠাই বাংলাদেশকে সহযোগিতার অগ্রাধিকারে রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন আবে।
রোববার সকালে ঢাকা ছাড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

তার স্ত্রী আকি আবে একটি মিশনারি স্কুল এবং ঢাকা নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন।

প্রায় দুই যুগ পর জাপানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রীলঙ্ক সফর করছেন শিনজো আবে।