ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Monday, 04 August 2014 08:54

সরকারি কর্মচারী আইনের খসড়া চূড়ান্ত Featured

বিভাগীয় ব্যবস্থার আগে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার বিধান রেখে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই এই খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, রোববার সচিবালয়ে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। “খসড়া চূড়ান্ত করা হলেও কিছু সুপারিশ রাখা হয়েছে।

এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে তা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সায় পেলে যাবে সংসদে।”

 

সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই আইন পাস হলে প্রশাসনে জবাবদিহিতা বাড়ার পাশাপাশি প্রশাসন পরিচালনা আরো সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন কামাল চৌধুরী।

 

তবে সচিব কমিটি কী কী সুপারিশ রেখেছে- সে বিষয়ে কিছু বলেননি জনপ্রশাসন সচিব।

 

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ দিনেও তা প্রণীত হয়নি। ফলে বিধি, নীতিমালা ও প্রয়োজনমতো নির্দেশনাপত্র জারি করে সরকারি কর্মচারীদের পরিচালনা করা হচ্ছে এতদিন ধরে।

 

 

এতে বলা হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।

 

দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অনুরূপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা তদন্ত করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।

 

তবে ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগ গ্রহণের আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।

 

দুর্নীতিসহ অন্যান্য অপরাধে কোনো কর্মচারীর তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হলে তাকে চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

 

আইনের খসড়া অনুযায়ী, তিন বছরের বেশি মেয়াদে কারাদণ্ড হলে সরকারি কর্মচারীকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা যাবে।

 

সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা করতে পারবেন।

 

মেধা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা ও কর্ম মূল্যায়নকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হবে বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে।

 

খসড়া অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি স্থায়ী বেতন কমিশন রাখতে হবে, যা প্রতি বছর বাজার মূল্যের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সমন্বয় করে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ করবে।

 

আইনটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের উৎসাহ দিতে জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতিরও ব্যবস্থা করা হবে।

 

আইনের খসড়া অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না এবং তাদের নিরপেক্ষভাবে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকতে হবে।