ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Saturday, 26 July 2014 22:57

‘মাঠেই দেখা হবে’ Featured

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনের হুমকির জবাবে বলেছেন, আওয়ামী লীগও মাঠে আছে। মাঠের দেখা মাঠেই হবে উল্লেখ করে তিনি বিএনপিকে নতুন নির্বাচনী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।

তিনি বলেন,“মাঠে নামুক না। মাঠে আওয়ামী লীগ আছে, জনগণ আছে। মাঠের দেখা মাঠেই হবে। ফুটবল মাঠে কে কয়টা গোল দেয়, সেটা সেখানেই দেখা যাবে। নির্বাচনের ট্রেন তো চলে গেছে।

এখন তাদের নতুন ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কখন আর একটা ট্রেন আসে।

 

প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার সকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। লন্ডন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর তার সরকার মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। এটা দেশের মানুষ উপলব্ধ করছে। কিন্তু মানুষের এই স্বস্তি দেখে কয়েকজন খুশি হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের মধ্যে যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছি তাতে তাদের ভালো না লাগলেও জনগণের জন্য ভালো, তারা চেয়েছিল গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে। থাইল্যান্ডের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এবং তাদের গাড়িতে পতাকা তুলতে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে কি হত? এদেশ থাইল্যান্ডে পরিণত হত। থাইল্যান্ডের অবস্থা এখন কি তা দেখেছেন”।

 

ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনে আইন-ৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাদের সহযোগিতা করবে? যারা আন্দেলনের নামে ধংসযজ্ঞ করবে তাদের সহযোগিতা করবে নাকি জনগণের জানমাল রক্ষা করবে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রধান হিসাবে আমার দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জানমাল রক্ষা করা। তাদের আন্দোলন তো মানুষ পোড়ানোর আন্দোলন। যে সব মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে আর এখন যারা পোড়ার যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছে তাদের অবস্থা কি? ভেবে দেখেছেন? যারা মারা গেছেন তাদের পরিবার গুলোর কি অবস্থা? সামনে ঈদ। এটা কি বিএনপি-জামায়ত তারা ভেবে দেখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, তারা আন্দোলনে নামে এসব করবেন আর আমরা বসে বসে দেখবো? তিনি দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলেন, যারা এসব করবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

 

বিএনপির সাথে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রশ্নকারি সাংবাদিককে তিনি বলেন, “আপনার বাবা মাকে কেউ যদি হত্যা করে এবং হত্যার দিন যদি উৎসব করে তাহলে আপনি কি তাদের সাথে কথা বলতে পারবেন”।

 

বিএনপির ক্রমাগত হুমকির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাকে যদি খুন করার চেষ্টা করা হয়, হুমকি দেয় তার সাথে কি আপনি ডায়ালগ করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ করবো? যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের সঙ্গে কিভাবে সংলাপ হবে? তারপরও বিএনপি নেত্রীকে সংলাপের আহবান জানিয়ে অপমানিত হয়েছিলাম, আমাকে আর কতোবার অপমানিত হতে বলেন?

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে হোক নির্বাচন হয়েছে। ৪০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে। জনগণও নির্বাচন মেনে নিয়েছে। এখন আবার কেন সংলাপের কথা বলছেন। তারা ভুল করেছে, তার খেসারোত জনগণ কেন দিবে। কোন রাজনৈতিক দল যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যার্থ হয় তাহলে তার খেসারাত তাদের দিতে হবে। জনগণ কেন দিবে?

 

তিনি বলেন, যদি দেশ চালাতে ব্যর্থ হতাম, তাহলে সংলাপ বা নির্বাচনের প্রশ্ন আসতো। দেশের জনগণ শান্তিতে আছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করতে বিএনপি আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাই শান্তি নষ্ট করতে সংলাপ-নির্বাচন চায় তারা। কারণ আবার নির্বাচন দিলেই তারা জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা করবে। গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগণের যে উপকার হয় এবং বিদেশে সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয় আমরা তা প্রমাণ করে দিয়েছি।

 

যারা সংলাপের কথা বলেন, তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই যুদ্ধাপরাধেিদর সাথে সরকার গঠন করা। অথচ তারা এ ব্যাপারে সব সময় ডুয়েল রুল পালন করে থাকেন। তারা কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান না, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় দেখতে চান?

 

‘বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আর একটি পনেরই আগস্ট হলে তার জন্য সরকার দায়ী থাকবে’- একজন সিনিয়র সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বক্তব্যকে সরাসরি হত্যার হুমকি হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের এই বক্তব্যে জিয়াউর রহমান যে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল জাতির সামনে তা স্পষ্ট করেছে।

 

তিনি বলেন, বিএনপির জন্ম যে হয়েছিল হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। তারা হত্যা করার পরিকল্পনা করেই হুমকি দিতে থাকে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোন দুঃখে আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে আাঁতাত করবে। আঁতাদের রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থে কাজ করে। জামায়াতের সাথে আঁতাত করার কি আছে।

 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, এদেশেই এ বিচার শেষ হবে। যেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হবে।

 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় র্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। একজনের রায় কার্যকর হয়েছে। বাকিদের রায়ও কার্যকর হবে।

 

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সামরিক শাসকরা করেছিল। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে এটি খাপ খায় না বলেই আলোচনাটা উঠেছে। হওয়াটাও সমীচীন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও পরে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এক সামরিক ফরমানে ওই অনুচ্ছেদ বাতিল করেন। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা পরে দেয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের’ কাছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান সামরিক ফরমান দিয়ে ক্ষমতায় বসে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে। ইতিমধ্যে জিয়ার শামনামলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরে আমরা একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি করে সংবিধান সংশোধন করি। তখনও বিষয়টি উঠে এসেছিলো। বর্তমানে আইন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ অনেকে মতামত দিয়েছে। যেহেতু দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারা চলছে। সেজন্য ৭২’র সংবিধানে যে ধারাটি আছে তা ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন তারা রাষ্ট্রের মালিক জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই ক্ষমতা থাকা উচিত।

 

আগামী জাতীয় নির্বাচন সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি আগামী জাতীয় নির্বাচন সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে অস্পষ্ট কিছু নেই। যারা গনতন্ত্রের ভাষা বুঝতে পারে তাদের কাছে এটা স্পষ্ট নয়।

 

প্রধানমন্ত্রী তার লন্ডন সফর নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে।

 

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের কোনো দ্বিধা ছিল না।