ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

'কুকুরের হাত থেকে রক্ষা পেলেও রক্ষা পায়নি মানুষের হাত থেকে'

Rate this item
(0 votes)

উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার তজুমদ্দিনে একটি মেছোবাঘকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। বাঘটি কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে একটি গাছে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেই মেছোবাঘটি কিছুক্ষণ কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলেও মানুষের হাত থেকে আর রক্ষা পায়নি। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের বৈরাগের পোল নামক এলাকাবসী পিটিয়ে বাঘটি হত্যা করে। পরের দিন শনিবার সকাল থেকে মৃত বাঘটি দেখার জন্য শত শত উৎসুক জনতা ওই এলাকায় ভিড় জমাচ্ছে। তজুমদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা এনজিও পল্লীসেবা সংস্থার কর্মকর্তা তরুণ কুমার দাস শনিবার সকালে মৃত ওই বাঘটি দেখার পর গতকাল রবিবার কালের কন্ঠকে জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে বৈরাগের পোল এলাকায় বাঘটিকে ধাওয়া করে কয়েকটি কুকুর।

কুকুরের তাড়া খেয়ে বাঘটি একটি গাছে উঠে কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এদিকে কুকুরগুলোর ঘেউ ঘেউ শব্দে এলাকার মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাঘটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। মৃত বাঘটিকে পরের দিন শনিবার সকালে স্থানীয়রা বৈরাগের পোল সংলগ্ন খালে ফেলে দেয়। অথচ গত দুই দিনেও বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মেছোবাঘ হত্যার বিষয়টি জানে না।

এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ওসি মো. সুলতান মহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

স্থানীয় লোকজনের হাতে মেছোবাঘ হত্যার খবর জানেন না শম্ভুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক দেওয়ানও। তিনি কালের কন্ঠকে বলেন, ওই এলাকাটি তার উপজেলা ও পাশ্ববর্তী লালমোহন উপজেলার শেষ সীমানা এবং ঘটনাটি রাতে হওয়ায় তাঁর জানা নেই। যে বন বিভাগ বাঘটিকে রক্ষা করার কথা সেই বন বিভাগ বাঘ হত্যার খবরই জানে না।

এ বিষয়ে বন বিভাগ তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ বিট কর্মকর্তা আ. মন্নানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেননি।

ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমি গতকাল রবিবার বিকেলে কালের কন্ঠকে জানান, মেছোবাঘ হত্যার বিষয়টি তাদের কেউ জানায়নি। বিষয়টি এখুনি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভোলা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, তজুমদ্দিনে মেছোবাঘ হত্যার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। তিনি আরো বলেন, যেহেতু বাঘটি গ্রামবাসী মেরে ফেলেছে তাই এই মুহূর্তে তাঁদের কিছু করারও নেই। জীবিত অবস্থায় বাঘটি আটকের খবর পেলে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা যেত। তারপরও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অনেক সময় তাদের কেউ না জানানোর কারণে এবং বন বিভাগের জনবল সংকটের কারণে অনেক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।