ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 20:09

নিষিদ্ধ পাথরে নির্মিত হচ্ছে সরকারি স্থাপনা

Rate this item
(0 votes)

কক্সবাজারের টেকনাফে সংরক্ষিত পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলনের পর কংক্রিট তৈরি করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বন বিভাগের ভাষ্যমতে, সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা পাহাড়ি পাথর উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে সরকারি কাজে ব্যবহার করছেন।

জেলা বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা পাহাড়ি পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকায় টেকনাফের বনভূমির অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা

করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং, কালভার্ট, সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণকাজে সংরক্ষিত পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলন করে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো ধরনের নজরদারি চোখে পড়ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পাথর সংগ্রহ করে এসব নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পাহাড়ের পাথর উত্তোলন করায় প্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃতির অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ায় প্রতিবছর পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। এসব প্রতিরোধ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, টেকনাফের লেঙ্গুরবিল, রাজারছড়া, মিঠাপানিরছড়া, শীলখালী, মাথাভাঙা, জাহাজপুরা, মনখালী, মারিষবনিয়া, রঙ্গিখালী, পানখালী, হ্নীলা, হোয়াইক্যংসহ বিভিন্ন এলাকার পাহাড় থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেও এ ধরনের কাজে বাধা দিতে গিয়ে রাজারছড়া বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন।
জেলা দক্ষিণ সহকারী বন সংরক্ষক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করে সরকারি নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বন বিভাগের পাশাপাশি অন্য সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিছুদিন আগেও হ্নীলা, হোয়াইক্যং, মাথাভাঙা, লেঙ্গুরবিল থেকে প্রায় এক হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:40