ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 20:08

হাওরে ফাঁদ পেতে চলছে পাখি শিকার

Rate this item
(0 votes)

মৌলভীবাজারের কাওয়াদীঘি ও হাইল হাওরে ফাঁদ পেতে অবাধে চলছে পরিযায়ী পাখি শিকার৷ স্থানীয়ভাবে চারটি পরিযায়ী পাখি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়৷ তবে পাখি শিকার বন্ধে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এ কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন৷
হাওরপারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত এলেই

হাওরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ এ ক্ষেত্রে বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমের কারণে হাইল হাওরে পাখি বেশি থাকে৷ এদিকে অব্যাহত শিকার ও বিলের পানি শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে কাওয়াদীঘি হাওরে পাখির সংখ্যা অনেক কমে গেছে৷
গত ২৩ জানুয়ারি এ দুটি হাওরপারের একাধিক লোক জানিয়েছেন, হাইল হাওরের জলপুরা, জটুয়া, লালের ডোবাসহ বিভিন্ন বিল এলাকায় সন্ধ্যার দিকে জাল পাতেন শিকারিরা৷ রাতের বেলা পাখিরা খাবারের সন্ধানে দল বেঁধে এক বিল থেকে আরেক বিলে উড়ে যাওয়ার সময় একেকটি জালে ১০ থেকে ১৫টি পাখি আটকা পড়ে৷ এ ছাড়া বিলের পানিতে কারেন্ট জাল পেতেও পাখি শিকার করা হয়৷ পাখিরা বিলে নেমে ডুবসাঁতার কাটার সময় শিকারিরা একদিক থেকে তাড়া করেন৷ তাড়া খেয়ে পাখি জালে আটকা পড়ে৷
মৎস্যজীবীদের একটি অংশ মাছ ধরার ফাঁকে জাল পেতে পাখি শিকার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ আবার কয়েকজন নামে মৎস্যজীবী হলেও পাখি শিকার করাই তাঁদের পেশা৷
শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও প্রাণী সংরক্ষক সীতেশ রঞ্জন দেব বলেন, পাখি শিকারের সঙ্গে উপজেলার হাইল হাওরপারের বরুণা এলাকার কয়েকজন মৎস্যজীবী জড়িত৷ তাঁরা পাখি শিকার করে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে বিক্রি করেন৷
জুলফিকার আলী নামের মৌলভীবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, শিকারিরা খুব সকালে শহরের কুসুমবাগ এলাকায় এসে গোপনে পাখি বিক্রি করেন৷ সদর উপজেলা এবং রাজনগর উপজেলার কাশিমপুরসহ হাওরসংলগ্ন বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামে এসব পাখি বিক্রি হয়৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এক হালি পাখি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে৷ পাখিদের মধ্যে সরালি, সাদা বক ও কিছু অচেনা পাখি রয়েছে৷
প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব মৌলভীবাজারের আহ্বায়ক হাসানাত কামাল বলেন, পাখি শিকার বন্ধে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগে নেই৷ এ কারণে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে৷
মৌলভীবাজারে অবস্থিত বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই৷ তবে যেসব এলাকায় পাখি শিকার হচ্ছে, খোঁজ নিয়ে সেখানে অভিযান চালানো হবে৷’

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:40