ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 20:07

আশ্রয় ও খাদ্যসংকটে বিপন্ন বন্যপ্রাণী

Rate this item
(0 votes)

 নির্বিচারে প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় ও বুনোফলের গাছ, লতা ধ্বংস করায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের প্রাণীকুল। বনাঞ্চলে খাদ্য এবং উপযুক্ত আশ্রয়স্থলের সংকট সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই জনবসতিতে এসে মানুষের হাতে হতাহত হচ্ছে বন্য প্রাণী।

এদিকে আক্রান্ত প্রাণীকে নিরাপদে রাখা, চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষা দেওয়ার স্থায়ী কোনো পরিচর্যাকেন্দ্র নেই বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের। এমন পরিস্থিতিতে আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ

দিবস।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, বন বিভাগ ও বন্য প্রাণীগবেষক সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে ৩১ হাজার ৬৫৭ হেক্টর বনভূমি রয়েছে। সমতলভূমি থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উঁচু বড়লেখা উপজেলার মাধবছড়া পাহাড়ের ঝোপজঙ্গলে বিভিন্ন জাতের গাছপালা ও মুলিবাঁশের ঝাড় ছিল। বাঘ, হাতি, ভালুক, হরিণ, বানরসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী সেখানে ছিল। এখন সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে সামাজিক বন। একই রকম সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন বন এলাকায় একাশিয়াসহ পরিবেশের ক্ষতিকর অনেক জাতের বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক বনে পুনরোৎপাদনের সুযোগ না দিয়ে কৃত্রিম বনায়নের কারণে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাদ্যের খোঁজে প্রায়ই বিভিন্ন প্রাণী বন থেকে জনবসতিতে বেরিয়ে আসছে। লোকালয়ে আসা হরিণ, বন মোরগ, পাখিসহ বহু প্রাণী শিকার করছে মানুষ। মেছো বাঘসহ নানা প্রাণী অসচেতন মানুষের হাতে আক্রান্ত হচ্ছে। বন বিভাগ ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে উদ্ধারকারীরা কিছু প্রাণী উদ্ধার করছে। সেগুলোকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আবার বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু উদ্ধার করা প্রাণী সংরক্ষণ এবং চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষা দেওয়ার কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত সীতেশ রঞ্জন দেবের বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আহত প্রাণীদের আশ্রয় হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মৌলভীবাজার বিট কার্যালয়ে প্রাণীদের চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সীতেশ রঞ্জন দেব গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে প্রাণীকুল বনে টিকছে না। আগে এই মৌসুমে (গ্রীষ্ম-বর্ষা) লাউয়াছড়া থেকে বুবি (লটকন), কাউ, লক্ষ্মী আম (ছোট জাতের আম) ব্যাগে ভরে নিয়ে এসেছি। এগুলো বানর, ভালুকসহ পশুপাখিরা খেত। এখন পাওয়া যায় না। ছড়ায় (পাহাড়ি খাল) শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না। বর্ষায় লোকজন বাঁধ দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরে ফেলে। জঙ্গলের মধ্যে চরম খাদ্যসংকট চলছে।’ তিনি (সীতেশ রঞ্জন দেব) জানান, গত পাঁচ-ছয় মাসে সেবা ফাউন্ডেশন থেকে সাত-আটবারে প্রায় ১৩০টি বন্য প্রাণী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল মেছো বাঘ, বানর, অজগর, হরিণ, গন্ধগোকুল, ধনেশ পাখি, সাদা বক, সরালিসহ বিভিন্ন জাতের পাখি ও সাপ।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান গত সোমবার জানান, বিগত পাঁচ মাসে তারা চিকিৎসা ও সেবা দেওয়ার পর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ১০টি মেছো বাঘ, দুটি অজগর, দুটি হরিণ, একটি বানর, একটি লজ্জাবতী বানর, বর্ষিজুরা ইকোপার্কে একটি তক্ষক ও সাতটি মুনিয়া পাখি এবং দেওরাছড়া চা-বাগানে একটি শকুন অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্থায়ী একটি পরিচর্যাকেন্দ্র (রেসকিউ সেন্টার) থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে সমস্যা হলে পশু হাসপাতালে দেখানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে একটি রেসকিউ সেন্টার হতে পারে।

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:40