ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 18:09

বিপন্ন বন্য প্রাণীর প্রদর্শনী

Rate this item
(0 votes)

সূর্য ওঠেনি সারা দিন। কুয়াশা-বৃষ্টি ঝরছে। এরই মধ্যে ফিডারে দুধ খাচ্ছে মেছো বাঘের তিনটি বাচ্চা। ফিডারের দখল নিতে একজন আরেকজনের ঘাড়ের ওপর উঠছে। ঠেলে ফেলে দিচ্ছে। ছোটাছুটিতে কী যে ক্ষিপ্রগতি! এ দৃশ্য দেখার জন্য গতকাল বিকেলে রাজশাহী নগরের বড়কুটি বিনোদনকেন্দ্রে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে ভিড় করেন সব বয়সের মানুষ।


বিপন্ন প্রকৃতি, বিপন্ন পরিবেশ ও বিপন্ন বন্য প্রাণী—যার অনিবার্য ফল হলো প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা। আগামী প্রজন্মের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ এবং বাসযোগ্য একটি পৃথিবীর স্বার্থে আজই সময় এসেছে। বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে আপনার হাত সম্প্রসারিত হোক—এই আহ্বান জানিয়ে রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ এবং রাজশাহী নেচার ক্লাব আরণ্যকের যৌথ উদ্যোগে গতকাল বুধবার বিকেলে উদ্ধারকৃত বন্য প্রাণী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এখানেই স্থান পেয়েছে ওই তিন বাঘশাবক।
আয়োজকেরা জানান, বন্য প্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকৃত অথবা আটক বন্য প্রাণী প্রদর্শনের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে বন্য প্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মেছো বাঘ ছাড়াও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে তিন প্রজাতির কচ্ছপ—সুন্ধি কাছিম, কড়িকাইট্টা ও হলুদ কাইট্টা, হিমালয়ের গ্রিধিনি শকুন, তিলা ঘুঘু, ভাতশালিক, বানর ইত্যাদি। প্রদর্শনীতে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্লোগান লেখা ৭০টি ফেস্টুন, কয়েকটি বড় ডিজিটাল ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম জানান, গত সোমবার বগুড়ার শেরপুর থেকে তাঁরা এই তিন প্রজাতির আড়াই মণ কচ্ছপ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। মেছো বাঘের বাচ্চাগুলোকে পাবনার আটঘড়ি থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর উদ্ধার করা হয়েছে। শকুনটি গত চার-পাঁচ দিন আগে বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বন বিভাগ যে উদ্যোগ নিয়েছে তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করাই এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য। প্রদর্শনী চলাকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আমিনুজ্জামান মো. সালেহ রেজা, পরিবেশ কৃষি তথ্য পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর শাহ ও আরণ্যকের সদস্য আল আমিন, আতিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:39