ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 27 February 2014 17:06

শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দাবি

Rate this item
(0 votes)

বাংলাদেশে জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্র-র প্রধান নির্বাহী প্রদীপ কুমার রায় পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।



ঢাকা, ডিসেম্বর ০৭ বাংলাদেশে জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্র-র প্রধান নির্বাহী প্রদীপ কুমার রায় পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২ ডিসেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শুরু হওয়া জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে 'সিডর' এর আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতির কথা বিবেচনা করে এ দাবি তোলা হয়েছে।

সুপ্রর অন্য দাবিগুলো হচ্ছে, শিল্পোন্নত দেশে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনের মাত্রা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে কমিয়ে আনা, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়া, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নির্গমনের শতকরা হার অনুযায়ী বাংলাদেশকে বিশেষ 'কার্বন ট্র্যাক্স' হিসেবে ক্ষতিপূরণ দেয়া।

সম্মেলনে সুপ্র-র চেয়ারপার্সন আবদুল আউয়াল, অক্সফাম জিবি-র জিয়াউল হক মুক্তা, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আজগর আলী সাবরী, পরিবেশ আন্দোলনের মিহির বিশ্বাস ও সুপ্র-র নির্বাহী কমিটির সদস্য আহমেদ স্বপন মাহমুদ, শামীমা আরা মুনমুন, আফরোজা আকবর বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ধনী দেশগুলোর শিল্প কারখানা থেকে ব্যাপক মাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড উদ্গিরণের ফলে পৃথিবীর উত্তাপ বাড়ছে। এর ফল হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বাংলাদেশেও উপকূলে জোয়ারের উচ্চতা ও লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরার মতো ঘন ঘন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই কারণেই হচ্ছে।

সুপ্র-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ রায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ১৯৮১ থেকে '৯৩ সাল পর্যন্ত নদী ভাঙনে দেশের ৭২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৯ জন মানুষ বাড়ি সরাতে বাধ্য হয়েছে। গড়ে প্রতি বছর বাস্তুভিটা হারিয়েছে ৬৩ হাজার মানুষ। ৪০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবেলায় উপকূল এলাকায় বনায়ন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করা, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাজেট বরাদ্দ রাখা এবং পরিবেশ খাতে বাজেট বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।

ডেবটেক : বিকেলে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে ডেবেলপমেন্ট অব বায়োটেকনোলজী এন্ড এনভারমেন্টাল কনজারভেশন সেন্টার (ডেবটেক) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা পরিবেশ বিপর্যয় ক্ষতিপুরন দাবি করেছেন। তারা বলেন,'' ক্ষতিপুরনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব ও বালি সম্মেলনের চেয়ারম্যানের কাছে আমরা এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করব। আমরা সাহায্য নয়, ক্ষতিপুরন চাই।'' সম্মেলনে সুন্দর বন রক্ষায় সরকারকে আরও ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানানো হয়।

আসন্ন ঈদে অতিরিক্ত কোরবানী না দিয়ে সেই অর্থ দুর্গত মানুষের জন্য ব্যয় করার আহবান জানানো হয়।

এতে সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ, নির্বাহী পরিচালক ড. ফেরদৌসী বেগম ও আহবায়ক প্রকৌশলী ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ডিসেম্বর শুরু হয়েছে। সম্মেলন ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 16:37