ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

'প্রকৃত অপরাধী ধরা না গেলে বন উজাড় রোধ সম্ভব নয়'

Rate this item
(0 votes)

গাছ কাটার অভিযোগে কেবল চট্টগ্রামেই মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের মতো। তবে জামিন নিয়ে আসামিরা পালিয়ে থাকায় বিচারকাজেও সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। এ অবস্থায় প্রকৃত অপরাধীদের ধরা না গেলে বন উজাড় রোধ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ এবং মহানগর বনবিভাগের আওতায় গাছ কাটার অভিযোগে মামলা রয়েছে প্রায় ৫০০০টি। আর এসব মামলায় রয়েছে প্রায় ১০০০০এর বেশি আসামি। তবে অধিকাংশ আসামি যামিনে এসে পালিয়ে গেছে বলে জানান বিচার সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিচার কাজও কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের বন মামলা পরিচালক, মোহাম্মদ আলী বলেন, 'ধরা পড়ার পর যখন তাদের কোর্টে সোপর্দ করা হয়, তারপর তারা জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায় এবং কোর্ট এলাকাতেই আর আসেনা।'রাষ্ট্রপক্ষের অপর এক বন মামলা পরিচালক, নাছির আহমেদ বলেন, ''সাক্ষীর পর্যায়ে গেলে সাক্ষী যখন হয়, মামলা তখন রায়ের পর্যায়ে চলে যায়।'

বন মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে অংশ নেয়া এই দুই আইন কর্মকর্তাদের অভিযোগ এ বন কাটার কাজে জড়িত একটি বিশাল অংশ হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর। আর আইনের বাধ্যবাধকতার কারনে যাদেরকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়, তাদেরকেই মামলায় আসামী করা হয়। মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, 'যারা অন্তরালে থেকে এ কাজে ইন্ধন যোগায় তাদেরকে এ কারণে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না।' নাছির আহমেদ জানান, মামলা তদন্তকালীন সময়ে যদি এদের পিছনে কোন প্রভাবশালী মহল থাকে তাহলে তাদেরকেও পরবর্তীতে মামলার আসামি করার দাবি তার।

এদিকে গাছ কাটার সাথে জড়িত মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে বন উজাড় রোধ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্টি এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ।

চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা এবং নগরীর ১৬টি থানার বন আইনে দায়েরকৃত মামলা গুলোর মামলা গুলো নিষ্পাত্তির জন্য আদালত রয়েছে মাত্র ১টি। আগে শুধুমাত্র নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মামলা গুলোর বিচার করতেন। তবে এখন বিচারিক কাজে রয়েছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

 

 

 

Last modified on Tuesday, 15 April 2014 14:07