ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বাড়ছে নদী দূষণ ও দখল, হুমকির মুখে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ

Rate this item
(0 votes)

নদীর ওপর প্রতিনিয়তই বাড়ছে দখল আর দূষণের মত ভয়াবহ অত্যাচার। কোথাও কোথাও নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে কলকারখানা। কোথাও-বা আবার দূষণের ফলে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে নদীর পানি। এমনকি অবৈধ বালু উত্তোলনে একদিকে বেড়ে গেছে নদী ভাঙন, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত হ্রাস পেয়েছে নাব্যতা।

নদীর বুকে দখল আর দূষণের মিশন চলছে সর্বত্র। প্রতিনিয়ত জ্যামিতিক হারে কমে যাচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা। ষাট বছর আগে এ অঞ্চলে প্রায় আট শতাধিক নদী থাকলেও, বর্তমানে প্রবহমান আছে মাত্র ২৩০টি। বুড়িগঙ্গার অবস্থা যেমন তেমন হলেও, ক্রমেই নদী থেকে ড্রেনে রূপ নিচ্ছে টঙ্গীর তুরাগ। স্থানীয়রা জানান, রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ক্রমশ ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে তুরাগের পানি।

পরিবেশবাদীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্যে নাব্য হারিয়েছে ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ নদী। ভূমি-দস্যুদের দখলে আছে ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ নদী। পুরোপুরি দূষণে হারিয়ে গেছে ১১ শতাংশ নদী। হাজারীবাগে প্রায় ২০০ ট্যানারির ১০০ টন অপরিশোধিত কঠিন বর্জ্য, ২০ হাজার ঘনমিটার তরল রাসায়নিক বর্জ্য প্রতিদিন ধ্বংস করছে বুড়িগঙ্গা আর তুরাগকে। পরিবেশবাদী সংগঠনের এই নেতা, অচিরেই নদী নীতি ও নদী আইন বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, 'নদীকে দেখভাল করার জন্য একক কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। সমন্বয়হীনতাও বড়ো একটি কারণ। নদী কমিশন যদি হয় তাহলে সেটা নদীর সুরক্ষার জন্য সৃষ্টি হবে।' অন্যদিকে পরিবেশ মন্ত্রী জানান, অনেকগুলো মন্ত্রণালয় জড়িত থাকায় কাজগুলো সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, 'মূলত এটা শিল্পমন্ত্রীর কাজ কিন্তু সরকার একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে। নদীর দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রী আছেন এটা তাদেরও কাজ। কারণ নদীর কাজে তো পরিবেশ যাবে না। শিল্পের বর্জ্য পড়ে নদী দূষিত হওয়ায় এটা শিল্প মন্ত্রণালয়েরও কাজ।'

সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় নদী দখল ও দূষণ রোধে নিয়জিত থাকলেও তা চলছে সমন্বয়হীনভাবে। নদীর তীর ইজারা দেয়া বেআইনি হলেও বিআইডব্লিউটিএ এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত ইজারা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।