ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 18 April 2014 15:48

জামায়াতের সহিংসতার শিকার মুক্তিযোদ্ধাকে হাসপাতাল ছাড়তে বললেন পরিচালক

জামায়াতের সহিংসতার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে হাসপাতাল ছাড়তে বললেন পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. হামিদুল হক খন্দকার।

বুধবার পরিচালকের চাপে মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন ঢালীর স্ত্রী নুরজাহান রেগম (৫৫) হাসপাতাল থেকে রিলিজ হয়ে বাসায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাকি আহত তিনজন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামলীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন-নিটোর ( পঙ্গু হাসপাতাল) হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

শামসুদ্দীন ঢালীর সন্তান শামসুর নাহার শাহীন অভিযোগ করে নবদেশ কে বলেন, এই হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসার বদলে আমরা পাচ্ছি চিকিৎসকের অবহেলা। ওষুধের বদলে খাইতেছি নার্সদের ঝারি। এখানে নেই সঠিক চিকিৎসা, সরকারি ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও আমরা পাচ্ছি না। বাইরে থেকে সব ওষুধ আর ব্যান্ডেজের গজ কিনে আনতে হয়। আর চিকিৎসকরা অনেক খারাপ আচরণ করে। নার্সদের ডাকলে তারা আসে না। কেন আসে না জানতে চাইলে খুব খারাপ আচরণ করে আমাদের সঙ্গে।

তিনি আরও  বলেন, ‘আমরা জামায়াতের সহিংসতার শিকার হলাম। আজ জীবন হারাতে বসেছি। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও কোনো মাথা ব্যথা নেই। প্রধানমন্ত্রী ৪০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। তা দিয়ে কোনরকম চিকিৎসা করেছি, এখন তাও শেষ।’

‘এখন মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। বাকি চিকিৎসা কেমনে করাবো? কেথায় পাবো টাকা-পয়সা? কেউ কি আমাদের পাশে দাড়াবে না?’

জানা গেছে, বর্তমানে ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের আহত ৪ সদস্য পঙ্গু হাসপাতালে ডা. মনজুরুল হক আকন্দ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। পঙ্গু হাসপাতালে ১৬ জানুয়ারী ভর্তি হয় এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলা এবং নার্সদের খারাপ আচরণের প্রসঙ্গে অভিযোগ নিয়ে পরিচালক অধ্যাপক ডা. হামিদুল হক খন্দকারের রুমে যান মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বজনরা। ওই সময় পরিচালক তাদের বলেন, ‘আপনারা অনেক ক্ষমতাবান, প্রধানমন্ত্রী আপনাদের দেখতে আসেন। এখনও কেনো আপনারা হাসপাতালে রয়েছেন। চলে যাচ্ছে না কেনো? তারাতারি রিলিজ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হন।’ আর কতদিন এখানে থাকবে?

প্রধানমন্ত্রী সাহায্যের হাত বাড়ালেও ওদের পাশে দাড়ায়নি কেউ। হাসপাতালের ফ্রি চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। আবারও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারী জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার শিকার হন গাজীপুরের শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দীন ঢালীর পরিবারের ৪ জন। এরা হচ্ছেন শামসুদ্দীন ঢালীর স্ত্রী নুরজাহান রেগম (৫৫), মেয়ে শাসসুর নাহার শাহীন (৩৩), রবিন জাহান কানন(২২) এবং মাসতুরা জাহান তুহিন (২৪)।

১৬ জানুয়ারী পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এ পরিবারের আহত ৪জনকে ৪০ হাজার টাকার সাহায্য দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আর কোন প্রকার চিকিৎসা সাহায্য তারা পায়নি এ হাসপাতাল থেকে। জানা গেছে, শামসুর নাহার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকুরি করেন।

 

 

 

Last modified on Friday, 18 April 2014 16:18