ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Monday, 14 April 2014 16:31

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ছায়ানটের বর্ষবরণ

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে উদযাপিত হচ্ছে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানমালা। এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যোগ করা হয়েছে নতুন প্রযুক্তি। প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এসব প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাণের উৎসবে পথে নামা সাধারণ মানুষ।

ন্যাড়া একবারই বেল তলায় যায়। বাঙালির হাজার বছরের অভিজ্ঞতা লব্ধ এ প্রবচন ভাঙ্গছে বাঙালি। ২০০১ সালে ভয়াবহ বোমা হামলার পরও বছর বছর বাড়ছে রমনা বটমূল অভিমুখী মানুষের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা আয়োজনের অনুষঙ্গও। ঢাকা মহানগর পুলিশ রমনা পার্কে টহলের কথা মাথায় রেখে তাদের নিরাপত্তা বলয়ে এবার যুক্ত করেছে বিশেষ যান। অন্যবারের মতো এবারও বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার নজরদারী, সেই সঙ্গে নিরাপত্তা চৌকিও। ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে র‌্যাব পুলিশের অবস্থান।

নিরাপত্তার এ ঘেরা টোপ কী উৎসবের স্বতঃস্ফূর্ততার ছন্দে ছেদ টানছে? এমন প্রশ্ন ছিল সর্ব-সাধারণের কাছে। রমনাতে আসা এক দর্শনার্থী জানালেন, কোনোভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন না কিন্তু বাইরে বের হবার রাস্তা আরও হওয়ার প্রয়োজন ছিলো। আরেক দর্শনার্থী বলেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয়ের কারণে কিছুটা কষ্ট হয় কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেয়াটাই ভাল। এক মহিলা দর্শনার্থী জানালেন, রমনা বটমূলে আসার সময় পুলিশ সদস্যরা ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে, তাতে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় ছিলো না।

তবে নিরাপত্তা আয়োজন নিয়ে ছায়ানটের ভাবনাটা একটু ভিন্ন। ছায়ানটের নির্বাহী সদস্য বেলাল সিদ্দিক বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই। নিরাপত্তা দিলেও এ অনুষ্ঠান হবে না দিলেও হবে বলে জানান তিনি। পুলিশের মহাপরিদর্শক খন্দকার হাসান মাহমুদ জানালেন, সব ধরনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ঠ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রমনা বটমূলে যারা নববর্ষকে অবগাহন করতে আসছেন তারা সচ্ছন্দে আনন্দ উপভোড় করতে পারবেন।

যেদিন প্রাণের এ উৎসবে নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা করে চিন্তিত হতে হবে না সেদিনই পূর্ণতা পাবে বর্ষবরণের এ মহা আয়োজন, এমটাই মনে করেন সাধারণ মানুষ।