ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Tuesday, 08 April 2014 20:03

বার্ন ইউনিটে ১০০ শয্যায় ভর্তি ৪৬০ রোগী

সিট নেই, ওষুধ নেই, জনবল নেই, নেইয়ের মধ্য দিয়েই চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে ভর্তি রোগী আছে ৪৩৭ জন।  পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে সার্বিক চিকিৎসাসেবা।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সরেজমিনে এসব চিত্র দেখা যায়।

ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৪ টি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের মধ্যে এটিই আধুনিক ও বেশি কার্যকর থাকলেও নেই পর্যাপ্ত জনবল। ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালানোর জন্য যে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরও সেই জনবল আছে।

আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল ‘নবদেশ’ কে জানান, এখানে অনেকেই বিনা বেতনে কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল পবিবেশ পরিস্থিতি বুঝে চাকরি স্থায়ী করা হবে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলেও এর কোন কার্যক্রমই নেই। এখানে ওয়ার্ডবয়,আয়া এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিলিয়ে ৩৭ থেকে ৪০ জনের মত লোক বিনা বেতনে কাজ করছেন। আর পোড়া ঘায়ের পরিচর্যা সবাই করতে পারে না। এদের চাকরি স্থায়ী করা জরুরী।

‘অটোক্লেব’ অকেজো

২০০৩ সালে আধুনিকরন করা লক্ষ্যে ৮টি অটোক্লেব মেশিন কেনা হয়েয়েছিল। এ মেশিনগুলোর দাম ২৫ হাজার থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এই মেশিন রোগীর প্লাস্টিক সার্জাারির কাজে ব্যবহৃত গজ বা ব্যান্ডেজ জীবানু মুক্ত করা হয়।  বিগত ১০ বছর যাবৎ এই ৮টি মেশিন অকেজো হয়ে পরে আছে। এদিকে রোগীরা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার এটিএনটাইমসকে বলেন, বার্ন ইউনিটকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও আগের অবস্থায় রয়েছে এই ইউনিটটি। এর মূল কারণ হচ্ছে রোগীর পর্যাপ্ত সিট থাকলেও বাড়েনি জনবল। তবুও জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই বিভাগটি।

তিনি বলেন, দেশের ১৪টি হাসপাতালে বার্ন ইউনিট আছে কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সোহারওয়ার্দী হাসপাতালের বার্ন ইউনিটটি এখন কার্যকর রয়েছে। এছাড়া অন্য হাসপাতাল গুলোতে এই ইউনিটে কাজ করার মত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নেই, যা আমাদের আছে।

তিনি বলেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রথমিক পর্যায়ের সকল ঔষুধ হাসপাতাল থেকেই প্রদান করা হয়। আমরা গরিব রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালের দরিদ্র তহবিল থেকে সকল প্রকার ঔষুধ দিয়ে থাকি। এছাড়াও সরকারি বাজেটের ঔষুধ শেষ হয়ে গেলে তখন রোগীদের ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।

অকেজো মেশিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢামেক এর বার্ন সার্জারী করার জন্য ‘অটোক্লেব’ মেশিনটি অকেজো আছে। এই মেশিনটা হচ্ছে ৫ম জেনারেশনের। এটি কাজে লাগানো জন্য দক্ষ জনবল নেই তাই সম্পূর্ন অকেজো পড়ে আছে। বর্তমানে এর বাজার মূল্য কত তা সঠিক করে বলতে পারছি না। এদিকে সার্জারি করানোর জন্য ৩ মাস যাবৎ বেশ কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে।

 

 

 

Last modified on Tuesday, 08 April 2014 20:11