ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 18 July 2014 12:02

'মিসাইল হামলাতেই বিমান বিধ্বস্ত'

রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের হামলায় মালয়েশিয়ান বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ভূমি থেকে নিক্ষিপ্ত বিমানবিধ্বংসী ‘বিইউকে’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সি। যদিও বিদ্রোহীরা তা অস্বীকার করেছে। পূর্ব ইউক্রেনে বিমানটিকে জ্বলন্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ডোনেটস্ক এবং লুবানস্কের মাঝামাঝি এলাকায় বিধ্বস্ত হয় আমস্টার্ডাম থেকে কুয়ালালামপুরগামী বিমানটি।

এতে ২৮০ জন যাত্রীসহ ১৫ জন ক্রু ছিল। যাদের সবাই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যান্টন হেরাশচেঙ্কো।

রয়টার্স জানায়, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে ওই এলাকায় রুশপন্থী বিদ্রোহীদের তৎপরতা চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার কিয়েভ অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনের একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমান। বিমানটিকে ইউক্রেনের আকাশসীমায় গুলি করা হয়েছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

এদিকে, রুশপন্থী বিদ্রোহীরা বুধবার এসইউ-২৫ বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। অবশ্য রাশিয়া এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

এর আগে গত সোমবারও ইউক্রেনের একটি পরিবহন বিমান রাশিয়ার ভেতর থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণান্ত্রে ভূপাতিত হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। যে ঘটনায় বিমানের আটজন ক্রু'র মধ্যে দুই জন নিহত হয়েছিল।

 

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতেই মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি নেদারল্যান্ডের আমস্টার্ডাম থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হলো।

 

এ ঘটনার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজির রাজাক এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “এ খবরে আমি স্তম্ভিত। যতো দ্রূত সম্ভব আমরা তদন্ত শুরু করছি।” 

 

অপরদিকে মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্স টুইটারে এক বার্তায় বিমানটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার কথা নিশ্চিত করেছে।

 

নিহতদের মধ্যে ২৩ জন মার্কিন নাগরিক আছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

 

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।

 

এর আগে গত ৮ মার্চ ২৩৯ যাত্রী ও ক্রু নিয়ে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান এমএইচ ৩৭০ নিখোঁজ হয়। সেটির আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এর চার মাস পর আবারো দুর্ঘটনার কবলে পড়লো মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের অপর একটি বিমান।