ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 24 April 2014 08:31

কেমন আছে মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা? রানা প্লাজা ধ্বসের এক বছর Featured

রানা প্লাজা ধসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা দুর্ঘটনার ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার পাওয়া মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা।

মৃত্যুকে জয় করে যিনি দেশে-বিদেশে আলোড়ন তুলেছিলেন সেই রেশমা গত এক বছর গণমাধ্যমের সামনে হাজির হন নি। তবে, রানা প্লাজা ট্রাজেডির এক বছর পূর্তিতে তিনি কথা বলেছেন সময় সংবাদের সাথে। জানিয়েছেন গত এক বছর তিনি কেমন ছিলেন।

২০১৩ সালের ২৪এপ্রিল দেশের পোশাক-খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা সাভারের রানা প্লাজা ধসে শত শত শ্রমিক নিহত ও ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ দিন পর উদ্ধার পাওয়া রেশমা একটি আলোচিত নাম।

বছর ঘুরে আবারো এসেছে সেই ২৪এপ্রিল রানা প্লাজা ট্রাজেডি দিবস। রানা প্লাজা ট্রাজেডির সবচেয়ে অলোচিত ঘটনা মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা। সময় সংবাদের জানার চেষ্টা মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা এখন কেমন আছে?

এ ব্যাপারে রেশমার সোজা-সাপটা উত্তর, ভাল আছেন তিনি।

রেশমা কে বলেন,'ভালো আছি আমি। আমি এখন আউটপুট ডিপার্টমেন্টে কাজ করি। সবাই ড্রেস কতো পিছ নিলো সেটার হিসাব রাখতে হয়, সেট-আপ দিতে হয়।'

সেই ঘটনা ভুলে থাকতে চান রেশমা:

বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহতম শিল্প দুর্ঘটনার একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভয়াবহ ওই ভবনধস। ওই রানা প্লাজা ভবনে ছিল বেশ কয়েকটি পোশাক তৈরির কারখানা যার একটিতে কাজ করতেন পোশাক শ্রমিক রেশমা বেগম। তবে, দুর্বিষহ সে সময়টার কথা ভুলে থাকতে চান রেশমা। কারণ সেই সময়টার কথা মনে পড়লে এখনো আতংকিত হয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না সে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেশমা বলেন, 'ওই কথাগুলো মনে করতে চাচ্ছি না। ওই কথাগুলো মনে পরলে রাত্রে যখন একা একা থাকি, তখন ভয় পাই। আমি বেঁচে আসছি আমার মা-বাবার, ভাই-বোনের এবং দেশবাসীর দোয়ায় বেচে আসছি। আমার জীবনে যে ঘটনা ঘটেছে, তা যেন আর কারো জীবনে না ঘটে।'

রেশমা বলেন, 'আমি ওই ঘটনা মনেও করতে চাচ্ছি না। মনে করতে আমার খারাপ লাগে, এটা আপনাদের বুঝতে হবে।'

মৃত্যুকূপ থেকে রেশমার বেঁচে আসা:

২৪ এপ্রিল নয়-তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর প্রথমে জীবিতদের উদ্ধারে হালকা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়, এরপর জীবিত আর কেউ নেই-এরকম ধরে নিয়ে ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার। যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক গলিত লাশ বের হচ্ছিল, তখনি ১০মে বিকেলে তিনতলা থেকে জীবিত বের করা হয় রেশমা আক্তারকে। ‘উদ্ধার’ হওয়া ‘অলৌকিক কন্যা’ রেশমাকে নিয়ে শুধু দেশের মিডিয়াই নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়াও বেশ মাতামাতি করে। এ ঘটনা সারাবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে এমন ‘অলৌকিক ঘটনা’য় বাংলাদেশসহ পুরো দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ বিমোহিত হয়ে পড়েন। অবশেষে একটি জীবনের ‘জয়গানে’ তারা ভুলে যায় বাকি ১১২৭টি তাজা প্রাণের লাশ হয়ে যাওয়ার দুঃখ! সর্বত্র চলে হই-হুল্লোড়।

বেঁচে থাকা রেশমার পরবর্তী জীবন:

এরপর রেশমাকে নিয়ে সাংবাদিকরা কৌতূহলী হয়ে ওঠলে, রেশমা কি খেয়ে ১৭ দিন বেঁচে থাকলো এবং তার পোশাক এতো পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে কেন, তা নিয়ে রেশমাকেই প্রশ্ন করা শুরু করেন।

এদিকে, রেশমাকে উদ্ধারের কিছুদিন পরই ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সানডে মিরর রেশমা উদ্ধারের ঘটনা 'সাজানো' বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মিররের বরাত দিয়ে বাংলাদেশর বেশ কয়েকটি দৈনিকেও ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এ প্রতিবেদনটিকে নাকচ করে দেয় উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনী।

উদ্ধারের পরপরই রেশমাকে সাভারের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রায় একমাস চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা ওয়েস্টিনে চাকরি পান।

উদ্ধার তৎপরতার একেবারে শেষ পর্যায়ে ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে রেশমাকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিস্ময় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। রেশমা বেগম এখন ঢাকার পাঁচতারা হোটেল ওয়েস্টিনে কাজ করছেন।